ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি। এবার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার প্রায় ১৫০ সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরাইল থানায় মামলাটি করেন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন মাস্টারের মালিকানাধীন ফারজানা আনোয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার তামিম মিয়া। মামলায় রুমিন ফারহানার ১৭ জন সমর্থকের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হুমকি ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শহীদ মিনারে বাধা ও ধস্তাধস্তির ঘটনায় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পাল্টা মামলা করেন এমপি রুমিন ফারহানার সমর্থক আহাদ। ওই মামলায় আনোয়ার হোসেন মাস্টারকে প্রধান আসামি করে আরও পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ মোট ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদির ভূঞা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গেলে স্থানীয় বিএনপির একাংশের বাধার মুখে পড়েন এমপি রুমিন ফারহানা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এমপির পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও ওঠে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই স্থান ত্যাগ করেন। পরে তার সমর্থকরা সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় এক ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, ‘বিএনপির গুন্ডারা কেবল যে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে আমাকে শহীদ মিনারে বাঁধা দিয়েছে তাই নয়, আজকে তারা আমার নেতা কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে। ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ প্রশাসনের সামনে পুরো ঘটনা ঘটলেও তারা ছিল মূক বধির। নতুন বাংলাদেশ আর নতুন রাজনীতির এই হলো নমুনা।’
উল্লেখ্য, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন রুমিন ফারহানা। জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল।