ক্ষমতার দাপটে বাগিয়েছিলেন সিআইপি উপাধি, সম্পাদকের চেয়ারে বসে চালিয়েছেন প্রভাবের রাজনীতি। সেই ড. কাজী এরতেজা হাসান এখন নিজেই এক অমীমাংসিত রহস্য। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে পলাতক এই আওয়ামী নেতার নামে লাইসেন্স করা শর্টগান এখন কোথায়, জানে না খোদ রাষ্ট্রও। অস্ত্র চুরির যে ছক তিনি কষেছিলেন, পিবিআই’র তদন্তে তা এখন বালির বাঁধের মতো ধসে পড়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে যখন শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেন, তখনই আড়ালে চলে যান সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এই প্রভাবশালী নেতা। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ড. এরতেজা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে একটি পিস্তল ও একটি শর্টগানের লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০০৯ পরবর্তী সব লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি জমা দেন কেবল পিস্তলটি। কিন্তু রহস্যজনকভাবে নিজের কাছেই রেখে দেন মরণঘাতী শর্টগানটি।
আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে বাঁচতে এক অভিনব চাল চালেন এরতেজা। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন যে, তার অস্ত্রটি চুরি হয়েছে। তদন্তের ভার পড়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর ওপর। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গেল ১২ জানুয়ারি পিবিআই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এরতেজার মামলার আর্জিতে দেওয়া তথ্যের কোনো সত্যতা মেলেনি। সংগীত শিল্পী শেখ উর্মি আরমানের ভবনে অবস্থিত তার অফিস থেকে কোনো কিছুই চুরি হয়নি। বরং পিয়ন মিঠুকে দিয়ে সাজানো এই চুরির নাটকটি ছিল মূলত অবৈধভাবে অস্ত্রটি নিজের কাছে রাখার একটি অপকৌশল। চলতি বছরের ১২ মার্চ আদালত পিবিআই-এর তথ্যের ভিত্তিতে মামলাটি খারিজ করে দেন।
প্রশ্ন উঠেছে, আদালত মামলা খারিজ করার পরও সেই শর্টগানটি এখন কার কব্জায়? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্স করা অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি, যা উদ্ধারে ডিসিদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই ১০ হাজার মারণাস্ত্রের ভিড়ে এরতেজার শর্টগানটি কি তবে কোনো বড় নাশকতার ছক হিসেবে কোথাও লুকানো আছে?
তথ্য বলছে, ড. এরতেজার নামে বর্তমানে অন্তত দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তিনটি মামলা বিচারাধীন। ইতোপূর্বে রাজধানীর খিলক্ষেত থানার মামলায় তিনি কারাবাস করলেও বর্তমানে তিনি পলাতক। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—অস্ত্র জমা না দেওয়া এবং চুরির নাটক সাজিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করার পরও কেন তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা হচ্ছে না? ঠিক কোন অদৃশ্য শক্তির ছায়ায় তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে?
এসব বিষয়ে জানতে ড. কাজী এরতেজা হাসানের মোবাইল ফোনে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।