কক্সবাজার জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ফরেনসিক ল্যাবে মাদক শনাক্তকরণ যন্ত্র জিসি-এমএস সিস্টেম কেনাকাটায় নথিপত্র টেম্পারিং ও জালিয়াতি উন্মোচিত হয়েছে।
নাগরিক প্রতিদিনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, অত্যাধুনিক এই যন্ত্রটির মূল প্রস্তুতকারক বিশ্বখ্যাত ‘থার্মো ফিশার’। কিন্তু দরপত্রে সরবরাহকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘হাই টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজিস লিমিটেড’ যে ক্যাটালগ জমা দিয়েছে, তাতে করা হয়েছে জালিয়াতি। যন্ত্রটির মূল মাস রেঞ্জ বা ভর সীমা ১ দশমিক ২ থেকে ১,১০০। কিন্তু নথিপত্র টেম্পারিং করে তা করা হয়েছে ১ দশমকি ১ থেকে ১,১০০।
আপাতদৃষ্টিতে এই দশমিক ১-এর পরিবর্তন সামান্য মনে হলেও, ল্যাব টেস্টের নিখুঁত ফলাফলে বিশাল প্রভাব ফেলবে। ফলে ল্যাব রিপোর্ট ভুল আসার সম্ভাবনা শতভাগ। অর্থাৎ, এই যন্ত্রের ত্রুটিপূর্ণ রিপোর্টে একদিকে যেমন আসল মাদক কারবারিরা খালাস পেয়ে যাবে, তেমনি ফেঁসে যেতে পারেন নিরপরাধ সাধারণ মানুষ।
দরপত্রের অন্যতম শর্ত ছিল- বাংলাদেশে আর কোথায় একই যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে তার প্রমাণ দেওয়া। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখপূর্বক একটি চিঠি দাখিল করেছে। কিন্তু নাগরিক প্রতিদিনের সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে মিথ্যে তথ্য প্রদানের খতিয়ান।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও রিভার রিসার্চ ইনস্টিটিউটে এই ধরনের কোনো যন্ত্রের অস্তিত্বই নেই। সিআইডি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজিতে যন্ত্র থাকলেও তা ভিন্ন মডেলের। তালিকার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র রেনেটা ফার্মাসিউটিক্যালসে এই মডেলের যন্ত্রটি সচল রয়েছে। অর্থাৎ, ই-জিপি টেন্ডার আইডি- ১২৩২৫৯৯-এর অধীনে জালিয়াতির মাধ্যমে একটি স্পর্শকাতর সেক্টরের কেনাকাটায় কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএনসি-র উপ-পরিচালক (ক্রয় ও পরিকল্পনা) মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তথ্য সঠিক নয়, কোনো অনিয়ম হয়নি। কিন্তু নাগরিক প্রতিদিনের কাছে টেম্পারিং ও জালিয়াতির প্রতিটি নথির অকাট্য প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে।
সরকারি টেন্ডারে এই ধরনের জালিয়াতি ও টেম্পারিং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন অনুযায়ী গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হলেও এটা কি কেবল অর্থের লালসা, নাকি এর পেছনে রয়েছে বড় কোনো সিন্ডিকেটকে রক্ষার মিশন? ডিএনসি-র ল্যাবে যদি জালিয়াতির যন্ত্রই বসে, তবে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ কি কেবলই কাগুজে স্লোগান হয়ে থাকবে?