ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১১টা ৩৫ মিনিট। চারদিকে সুনসান নীরবতা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় ডেমরা রোডে র্যাব-১০-এর চেকপোস্টে চলছিল তল্লাশি। দূর থেকে একটি প্রাইভেটকারকে এগিয়ে আসতে দেখে থামার সংকেত দেন র্যাব সদস্যরা। কিন্তু ব্যারিকেড তোয়াক্কা না করে আচমকা তীব্র গতিতে পালানোর চেষ্টা করে গাড়িটি। মুহূর্তে রাজপথে শুরু হয় ধাওয়া! তবে শেষ রক্ষা হয়নি, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই থমকে যায় সেই অবাধ্য প্রাইভেটকার। আর গাড়িটির দরজা খুলতেই বেরিয়ে আসে অস্ত্র আর গুলি।
র্যাব-১০ জানায়, মঙ্গলবার রাতে সন্দেহভাজন প্রাইভেটকারটি হঠাৎ গতি বাড়িয়ে সদস্যদের চাপা দেওয়ার উপক্রম করে ছিটকে বেরিয়ে যায়। র্যাব সদস্যরাও নিজস্ব গাড়ি নিয়ে পিছু নেন। ডেমরা রোডে চলে ধাওয়া। অল্প সময়ের মধ্যেই চারদিক থেকে গাড়িটির চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আটক করার পর গাড়ির ভেতরে কোনো মাদক নয়, সিটের আড়াল থেকে একে একে বেরিয়ে আসে প্রাণঘাতী সব মারণাস্ত্র! ১টি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল, ১টি রিভলভার, ২টি ম্যাগাজিন, ১৩ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১টি ব্যবহৃত গুলির খোসা! গাড়ি থেকে অস্ত্র বহনের দায়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা হয় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি।
র্যাব-১০-এর হাতে আটক হওয়া এই তিন অস্ত্র বহণকারী হলেন—রবিউল ইসলাম, মাহবুব আলম মানিক ও নজরুল ইসলাম।
র্যাব জানায়, সাধারণ মাদক চোরাকারবারি কিংবা ছিনতাইকারী দলের বয়সের সঙ্গে অস্ত্র বহণকারীদের বয়সের বিস্তর ফারাক হয়। ৪৫ থেকে ৪৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তিরা গভীর রাতে একসঙ্গে বিদেশি পিস্তল ও রিভলভার নিয়ে কার মিশনে যাচ্ছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধোঁয়াশা। উদ্ধারকৃত গুলির খালি খোসাটির মাধ্যমে সন্দেহ থেকেই যায়, এই গাড়ি কাজলারপাড়ে আসার আগেই কোথাও কোনো অস্ত্রের মহড়া কিংবা কোনো বড় অপরাধ করে এসেছে!
র্যাব-১০-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। অনুসন্ধানী দল এখন খতিয়ে দেখছে—ঢাকা মহানগর এলাকায় অস্ত্রগুলো কোন সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে। রবিউল, মানিক আর নজরুলের পেছনে অর্থদাতা হিসেবে কোন আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়া সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে কিনা।