রাজধানীর মিরপুরে গভীর রাতের নীরবতা ভেঙে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে গুলির শব্দ। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন স্থানীয়রা। সেই রক্তাক্ত হামলায় প্রাণ হারান যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাফরুলের মিরপুর-১৩ নম্বর ই-ব্লকের ওপেক্স গার্মেন্টসের পাশে ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাত অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত ইউসুফ আলীসহ কয়েকজনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনজন।
স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রাত ১২টা ৪০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউসুফ আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, তার বুকের ডান পাশে গুলি লেগেছিল।
এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও দুজন ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী মনির হোসেন (৩২) এবং সবজি ব্যবসায়ী নালাম সরদার (৪৫)। নালাম সরদারের মাথার ডান পাশে এবং মনির হোসেনের বাম পায়ে গুলি লেগেছে। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা গোলাগুলির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অস্ত্রধারী একজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পর একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ইতোমধ্যে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
রাতের অন্ধকারে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে মিরপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশের তদন্তে হামলার নেপথ্যের কারণ ও জড়িতদের পরিচয় উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।