চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের অভিযোগের পর গ্রেফতার
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে আলোচিত মনোয়ার হাসান ওরফে লেদু হাসানকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-২। নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে লেদুকে আটক করা হয়। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-২ এর অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
র্যাবের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে লেদুর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি চক্র এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাত।
গত ১ জুলাই আদাবর থানার নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা। র্যাব জানায়, মামলায় গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে লেদুর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, লেদুর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মোট ৩২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ তাকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব-৪। একটি অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ডও হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবেও লেদু গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব। ওই মামলায় তিনি ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন।
র্যাব বলছে, লেদুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাদশা হত্যা মামলার অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মোহাম্মদপুরে অপরাধী চক্রের আধিপত্য, স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ। এসব ঘিরে আলোচনায় থাকা লেদুর গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।