গোপন দুর্নীতি অনুসন্ধান করতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অধ্যক্ষ, তদন্তে
একজন স্থানীয় সাংবাদিক সম্প্রতি ওই কলেজে শিক্ষক নিয়োগ ও অর্থনৈতিক অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করছিলেন। তথ্য সংগ্রহের সময় কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম (ছদ্মনাম) সাংবাদিককে "চুপ না থাকলে পরিণতি ভালো হবে না" এই মর্মে হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর ওই সাংবাদিক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে বিষয়টি নজরে আসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।
শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান,
“শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন প্রধান হিসেবে এ ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও শিক্ষক সমাজের উদ্বেগ:
অধ্যক্ষের এমন আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কলেজের অন্যান্য শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। শিক্ষক সমাজ বলছে, “এটি শুধু একজন সাংবাদিক নয়, শিক্ষার পরিবেশের বিরুদ্ধেও এক ধরনের হুমকি।” সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অধ্যক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে।
তদন্ত চলছে:
জেলা প্রশাসন জানায়, ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে যদি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কিংবা হুমকি গণতন্ত্রবিরোধী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এমন আচরণ আসা শুধু দুর্ভাগ্যজনকই নয়, বরং চিন্তারও বিষয়। এখন সবার দৃষ্টি তদন্ত প্রতিবেদন এবং এর ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।