অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতি এখনো অসম্পূর্ণ। এ কারণে কৌশলগতভাবে আরও তিন বছরের অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। বাস্তবসম্মত উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), জাতিসংঘের ওএইচআরএলএলএস ও জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় বহু-অংশীজন পরামর্শ সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারকে এখন প্রতিদিনের সংকট সামলাতে ‘ফায়ার ফাইটিং মোডে’ কাজ করতে হচ্ছে। প্রায় সব প্রধান অর্থনৈতিক সূচক নিম্নমুখী হওয়ায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারকে রীতিমত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’
জাতীয় কোষাগারের সামনে এখন বেশ কিছু তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের বদলে দৈনন্দিন সংকট ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দেওয়া; অর্থনৈতিক সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা এবং বিপুল জ্বালানি ভর্তুকি ও আমদানি নির্ভরতার কারণে অবিরাম আর্থিক ক্ষতি। পাশাপাশি ঋণের বোঝা বাড়ছে এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে কাঠামোগত দুর্বলতা।
মন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম দ্বিগুণ এবং শ্রীলঙ্কায় তা তীব্রভাবে বাড়লেও বাংলাদেশ সরকার দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, এই আর্থিক চাপ রাষ্ট্রের পক্ষে অনির্দিষ্টকাল বহন করা সম্ভব নয়।’
অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কৌশল তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এগুলো হল, দেশীয় প্রবৃদ্ধির জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি; আর্থিক ভিত্তি গড়তে বিএনপির ইশতেহারের নীতির সঙ্গে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই স্থিতিশীলতা অর্জনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিরতা নিশ্চিত করা। এই নীতিগুলো একটি স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ভিত্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরি করে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ কোনো স্থির নিশ্চয়তা নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল হতে হবে। সরকার আনুমানিক তিন বছরের বর্ধিত বা স্থগিতকালীন সময় ব্যবহার করতে চায়, যাতে দেশ প্রকৃত অর্থে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনা হলো প্রায় তিন বছরের এই সময়সীমার মধ্যে মৌলিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোকে শক্তিশালী করা। কেবল প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং এই সময়ে প্রকৃত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এলডিসি উত্তরণ বাস্তবসম্মত ও টেকসই লক্ষ্যে পরিণত হবে।’
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণকে আকস্মিক আর্থিক ধাক্কা থেকে রক্ষা করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সরকার একদিকে নাগরিকদের মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করছে, অন্যদিকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে কঠোর ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হবে না।’