অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ঋণ চুক্তির আওতায় যেসব শর্ত জুড়ে দিচ্ছে, তা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ‘যথোপযুক্ত’ নয়। তিনি বলেন, জনগণের প্রতি ‘দায়বদ্ধতা’ থেকে সরকার আইএমএফ-এর সব কথা মানতে পারবে না।
সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বৈশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে বেশিরভাগ উন্নয়ন সহযোগীরা একমত। তারা আমার উন্নয়ন সহযোগী। ওরা যদি আমার সঙ্গে একমত না হয়, আমি তো এগোতে পারব না। সব জায়গায় আমরা একমত হচ্ছি না। অনেক জায়গায় দ্বিমত হচ্ছে, আইএমএফ-এর সঙ্গে দ্বিমত হচ্ছে। কারণ আইএমএফ যে শর্ত দিচ্ছে ওটা আমার অর্থনীতির জন্য, জনগণের জন্য সুইটেবল না।’
আইএমএফ এর শর্তের বিপক্ষে সরকারের অবস্থান জারি রাখার ব্যাখ্যায় আমির খসরু বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত সরকার। আমাদের জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা আছে। তাদের কথা মত আমরা তো সব করতে পারব না। তাই কিছু বহুপক্ষীয় সংস্থার সঙ্গে আমাদের মতপার্থক্য রয়েছে। এই মতপার্থক্য চলতে থাকবে। কিন্তু আমি আমার কোর্স কারেকশন করব ততটুকু, যতটুকু আমার ইশতেহারের সঙ্গে থাকবে। এর বাইরে গিয়ে কিছু করা সম্ভব না।’
এর আগে, আইএমএফের সঙ্গে করা ঋণ চুক্তির বাকি অর্থ ছাড় করা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে গত ১৮ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, ঋণ কর্মসূচি চালিয়ে নিতে আইএমএফের ‘ইতিবাচক’ মনোভাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ডিসিতে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘এখনও আলোচনা (অর্থ ছাড়) চলছে। আলোচনার মধ্যে যেগুলো এখনও সমাধান হয়নি, সেসব সমাধান হবে।’
এর প্রায় তিন সপ্তাহ পর এসে আইএমএফের শর্ত না মানার দিকে সরাসরি ইঙ্গিত দিলেন আমির খসরু। অথচ আগের ঋণের সঙ্গে আরও ২০০ কোটি ডলার চাইছিল বাংলাদেশ। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবেলায় এ অর্থ চাওয়া হয়। তবে এর জন্য আইএমএফ সেসব শর্ত দিয়েছে, তা চলমান ঋণ চুক্তিতে থাকা শর্তের চেয়েও কঠিন বলে খবর এসেছে।