অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সঠিক স্থানে এনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন। দেশের মানুষের কাছে একটাই আকুতি, একটাই আবেদন; সেই সময়টুকু আমাদের একটু দেন। আমরা একটি কল্যাণকর রাষ্ট্রের দিকেই এগোচ্ছি। নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা আপনাদের কাছে দায়বদ্ধ।’
চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলীতে নিজ বাড়ির দারুস সালাম জামে মসজিদে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন অর্থমন্ত্রী। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘কোরবানির ঈদে সাধারণত জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, এবার কমেছে। আমরা এই ধারাটা অব্যাহত রাখতে চাই। আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার। আশা করি, ক্রমান্বয়ে কমে আসবে। তবে একটু সময় দিতে হবে।’
আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হবে। চট্টগ্রামের ইতিহাসে প্রথম অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার দেশবাসীকে অর্থনীতির গতিপথের দিশা দেখাবেন আমির খসরু। বাজেটকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতির হালচাল সাংবাদিকদের কাছে সংক্ষেপে তুলে ধরেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘খালি প্রবৃদ্ধির কথা চিন্তা করলে তো হবে না। সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির সুফল পেতে হবে। দ্রব্যমূল্য যদি সাধারণ মানুষের আওতার বাইরে চলে যায়, তাহলে তো তারা অর্থনীতির সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।’
আমির খসরু বলেন, ‘আমরা বিগত সরকারগুলোর কাছ থেকে দেশের একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতেও সেই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সঠিক জায়গায় আনতে হচ্ছে। আমরা সমৃদ্ধির পথে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
ঈদুল আজহা মানে শুধু পশু জবাই করে মাংস খাওয়া নয় বলেও মন্তব্য করেন আমির খসরু। তিনি বলেন, ‘ঈদুল আজহা মানে হচ্ছে ত্যাগ। আমাদের ত্যাগ করা শিখতে হবে। নিজে ত্যাগ করে দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। প্রতিবেশীর জন্য করতে হবে। মোট কথা ত্যাগের যে মহিমা, সেটা ধারণ করতে হবে। সবকিছু আমাকেই পেতে হবে—এই চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’ দেশে সবাই যেন সবাইকে সম্মান করে, এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে বলেও মত দেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।