প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ৬:৪৩:৪১
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (৩০ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি ইসলামী ব্যাংক, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের যাত্রা শুরু হলো। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু ইসলামি নয়, সংকটে থাকা অন্যান্য ব্যাংকের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে।
দেশের পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ও শক্তিশালী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় যোগ দেন সদস্যরা। প্রায় ২ ঘণ্টার বৈঠক শেষে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় হবে মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে। সম্প্রতি নতুন এই ব্যাংকের নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ে একটি হিসাবও খোলা হয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহ থেকেই এই ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে আর কোনো বাধা নেই।
শুধু সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংকের কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তাড়াহুড়ো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ব্যাংকিং খাত বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, শুধু শরিয়াহভিত্তিক নয়, সংকটে থাকা অন্যান্য ব্যাংকের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।
বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘যাদের জন্য ব্যাংকগুলোকে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে, তাদের কিন্তু কিছু হচ্ছে না। তারা কিন্তু মোটামুটি খুব খুশি। ভাবছে, এই সুযোগে আমার ব্যাংক বেইলআউট হয়ে যাচ্ছে, পরে তো আমিই মালিক হবো। সুতরাং যাদের জন্য এই সমস্যা হচ্ছে, তাদের কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নেই। মাঝখান থেকে সরকার এসে টাকা ঢেলে এগুলোকে বেইলআউট করছে।’
তৌফিক আহমেদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘সরকারেরও তো অনেকগুলো ব্যাংক আছে দুর্দশাগ্রস্ত। সরকার সেগুলোকে কেনো বেইলআইট করে না।’
এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন আরজিএসসি থেকে কোম্পানির নাম ছাড়পত্র, ব্যাংকের চলতি হিসাব খোলা এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের প্রয়োজনীয় বিধিবিধান পূরণের দায়িত্ব পড়ে সরকারের ওপর।