একীভূত হওয়া ৫টি ব্যাংকের আমানতকারীদের প্রতিবাদের মুখে ২ বছরের মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর ব্যক্তিগত মেয়াদি ও স্কিমভিত্তিক আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জমানো টাকার ওপর বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে ৫ ব্যাংকের প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন ডিপার্টমেন্ট’।
চিঠিতে বলা হয়, সলামী ব্যাংক কোম্পানির গঠন ও সম্প্রসারণসংক্রান্ত রেগুলেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগে যে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদি আমানতের ওপর মুনাফা স্থগিত রাখা হয়েছিল, তা পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। আমানতকারীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত এই মুনাফা দেওয়া হবে।
তবে এ মুনাফা পাবেন শুধু আমানতকারীরা। কোন প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে না। আগামী ৩ দিনের মধ্যে মুনাফা সংক্রান্ত সংশোধিত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজ্যুলেশন বিভাগে জমা দেওয়ার সময় বেধে দেওয়া হয়েছে।
এ জন্য ব্যাংকগুলোকে ২০২৫ সালের শেষ কর্মদিবসের ভিত্তিতে আমানত স্থিতি পুনরায় হিসাব করতে হবে এবং সংশোধিত হিসাবের বিবরণী তিন কর্মদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, কোনো আমানতকারী যদি নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি মুনাফা ইতোমধ্যে পেয়ে থাকেন, তাহলে সেই অতিরিক্ত অংশ ভবিষ্যৎ মুনাফার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অন্যদিকে, যেসব আমানতের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নয়, সেগুলোর বিষয়ে পূর্বের নির্দেশনা বহাল থাকবে।
এর আগে ২০২৪-২৫ সালে একীভূত হওয়া ৫ ব্যাংক লোকসান করায় শরিয়াহ্ কাউন্সিলের মতামতে মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক ৫টি হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
এই ৫টি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একটি নতুন ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং এদের সম্পদ, দায় ও জনবল নতুন ব্যাংকের অধীনে চলে আসবে।