নির্বাচনে যে সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসবে, অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে তাদের নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘অন্তবর্তী সরকার অর্থনীতিকে মোটামুটি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে, অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে৷ সামনের চ্যালেঞ্জ আরও বড়৷ সংস্কার আমরা যা করেছি, তা এনাফ না। তবে সামনের সরকারের জন্য তা সহায়ক হবে। আরো ট্যাক্টফুলি হ্যান্ডেল করতে হবে চ্যালেঞ্জগুলো।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার নির্বাচিত সরকারের হাতে যাবে। ওই সরকারের সময়ে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা যেন পেশাদার ভূমিকা পালন করেন, সেই আহ্বান জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকারের সময়ে চাপ আসবে, তাদের সরাসরি না বলা যাবে না।’
নেগোশিয়েট করার ক্ষমতায় যেতে হবে, তাদের অর্থনীতির নীতি বোঝাতে হবে, ব্যাংকিং আইন, অডিটের নর্মস দেখাতে হবে। রাজনৈতিক সরকারের সময়ে এভাবে আলোচনা ও সমঝোতা করে ঋণ বিতরণের পরামর্শ দেন সালেহউদ্দিন আহমেদ।
ঋণ বিতরণে বড় ব্যবসায়ীদের চেয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থান তৈরিতে তারা ভুমিকা রাখে। এজন্য তাদের ঋণ দিতে হবে হবে বেশি। বড়দের ঋণে ঝুঁকিও বেশি।’
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এখন সহনীয় মাত্রায় রয়েছে জানিয়ে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘অতীতে ঋণ দিতে হাত পুড়েছে। এখন ঋণ দিতে যে সর্তক করা হচ্ছে, তা থাকবে। দরকার ঋণ দিতে সাহসী হওয়া।’
সোনালী ব্যাংক এ বছর ঘুরে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামী বছর থেকে সম্পূর্ণ লাভজনক হবে। এখন ক্রেডিট কার্ড অনেক বড় খাত। নতুন পণ্য আনার জন্য চেষ্টা করতে হবে। ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক পাঁচ থেকে ১০ লাখ হতে পারে।’
বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকের সংখ্যা সাত হাজারের মতো বলে জানিয়েছেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। সোনালী ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বছরে পাঁচ থেকে সাত হাজার কোটি টাকার ঋণ পোর্টফোলিও, তা দ্বিগুণ হয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। ঋণ দিতে আরেকটু সাহসী হওয়া লাগবে।’
গত বছর সোনালী ব্যাংক পাঁচ হাজার কোটি টাকার মতো নতুন ঋণ দেয়। বর্তমানে ব্যাংকটিকে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, ‘সামনে আরও প্রতিকূল হতে পারে, এটা কাটিয়ে উঠতে হবে। সরকারি ব্যাংকে আদায় কম, সেই ধারা ভেঙে এগিয়ে যেতে হবে।’
তবে সব মানদণ্ডে সোনালী ব্যাংক ভালো করছে বলেও জানান আহসান এইচ মনসুর। তার ভাষায়, ‘অন্য সরকারি ব্যাংকের জন্য দিক-নির্দেশক হতে পারে সোনালী ব্যাংক।’
এ সময় সোনালী ব্যাংকের নামের সঙ্গে এখন পিএলসি যোগ হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, ‘এখন করপোরেট কাঠামোয় ব্যাংক চালানো দরকার, যতোটুকু পারা যায়। এমডি নিয়োগ ক্ষমতা বোর্ডকে দেওয়া দরকার। এমডিকে হায়ার অ্যান্ড ফায়ার করার ক্ষমতা বোর্ড পাক।’
অর্থ মন্ত্রণালয় ও সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা বোর্ডকে জবাবদিহির মধ্যে আনেন। তাদের পারফরমেন্স দেখেন, তাদেরকে বাদ দেন, নিয়োগ দেন। সরকারি ব্যাংক হয়েও সোনালী ব্যাংক ভালো করছে।’
উল্লেখ্য, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরের দুই ধাপের নিয়োগ, পদোন্নতি দেয় ও সরকার।