জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে স্কুল পর্যায়ে অনলাইন-অফলাইনের সমন্বয়ে ক্লাস নেওয়ার চিন্তা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই সরকার এমন পরিকল্পনার কথা ভাবছে বলে জানান মন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রমজানসহ নানা কারণে পাঠদান ঘাটতি পোষাতে শনিবারও স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জ্বালানি সংকট, যানজট এবং হামের প্রাদুর্ভাবের কথাও বিবেচনায় রেখেছে সরকার। সবদিক বিবেচনায় রেখে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু, বৈদ্যুতিক বাস, মেট্রো ও সৌরশক্তিচালিত পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রী নানা নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে এখন থেকে দেশের স্কুলগুলো পাঁচ দিনের পরিবর্তে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস খোলা রেখে অন্তত তিন দিন অনলাইনে ক্লাস চালু রাখার চিন্তা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আংশিক অনলাইন শিক্ষার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে সম্পূর্ণ অনলাইন শিক্ষা চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে—এ বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করছেন জানিয়ে এহসানুল হক মিলন বলেন, আগামী ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে স্কুল পর্যায়ে এ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও কলেজ পর্যায়েও তা প্রযোজ্য হতে পারে কী না, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আপাতত ভিন্ন ব্যবস্থাপনা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।