পাহাড়ি আদিবাসীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, সানগ্রাইন, সাংক্রান, চাংক্রান উপলক্ষ্যে আগামী ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল ছুটি ঘোষণা এবং ওই দিনগুলোকে ছুটি হিসেবে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে যুক্ত করার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বরাবর দুই দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখা।
রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে উপাচার্যের অফিসে এ স্মারকলিপি জমা দেয় তারা। দাবিগুলো হলো- অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভা আহবান করে ১২-১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন ছুটি ঘোষণা করে আইন পাস করা, বিশ্ববিদ্যালয় বাৎসরিক একাডেমিক ক্যালেন্ডারে বিষয়টি অন্তর্ভুক্তকরণ এবং সকল বিভাগ, ইনস্টিটিউটকে অবহিত করা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি সুমন চাকমা বলেন, ‘আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছি। বিগত কয়েক বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব বিজু, বৈষু, বিষু, বিহু, সাংগ্রাই ও চাংক্রান উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। উল্টো এ সময় বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা চলমান থাকে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে নিজ নিজ বিভাগে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অধীন। প্রশাসন সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উত্থাপন করলে তবেই তা অনুমোদন পেতে পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ সাধারণ সম্পাদক ময়ন্ত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘প্রতিবছর স্মারকলিপি দেওয়ার পর প্রশাসন ছুটি ঘোষণা করার আশ্বাস প্রদান করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান প্রশাসন এবং নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম স্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’