এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে অনলাইন প্রতারণায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সিফাত আহমেদ সজিব (২২), মো. সালমান (২২), মো. মেছবাউল আলম মাহিন (১৯) ও মো. মহিদুজ্জামান মুন্না (১৯)।
ডিএমপি জানায়, গত সোমবার সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ (সিউটিসি) কর্তৃক সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিংয়ের সময় ‘এসএসসি-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস গ্রুপ’ নামে একটি ফেসবুক পেইজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি চৌকস দল ওইদিন রাতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জিরাবো তাজপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. সিফাত আহমেদ সজিবকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতের স্বীকারোক্তি ও প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের পর বৃহস্পতিবার বগুড়ার ধুনট থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সালমানকে তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একইদিন দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানাধীন নবাবগঞ্জ বাজার হতে দেওগাঁ রিয়াজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়গামী পাকারাস্তার মধ্যবর্তী দাদনপুর মালিপাড়াগামী কাচারাস্তার সংযোগ স্থলে কাচাঁরাস্তার উপর থেকে মো. মেছবাউল আলম মাহিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ থানাধীন নওগা ইউনিয়নের শাহ শরীফ জিন্দানী (রহঃ) এর মাজার সংলগ্ন পরামানিক বাড়ীর আসামীর শ্বশুর সালাম পরামানিক এর বসতঘর হতে মো. মহিদুজ্জামান মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা অবৈধভাবে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে একটি স্বচ্ছ, সুন্দর ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নৈরাজ্য, হতাশা, উদ্বেগ ও নৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালায়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ডিএমপি রমনা মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।