ইসলামাবাদ সফরকালে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠক করবেন না বলে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় এই শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার কিছু আগে আব্বাস আরাগচি এবং ইরানি প্রতিনিধি দল বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে তারা পাকিস্তানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন।
আগের দিন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছিলেন, পাকিস্তানে তেহরানের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনার’ জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন।
তবে এই সফর এখনো হবে কি না বা তারা কখন রওনা দেবেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট।
ইরান বারবার প্রকাশ্যে দাবি করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। শনিবার তারা কেবল পাকিস্তানিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবে; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়।
তবে উইটকফ ও কুশনারের সফরের বিষয়ে শুক্রবার লেভিটের ঘোষণা ইসলামাবাদসহ সারাবিশ্বে এক ধরনের গুঞ্জন তৈরি করেছিল যে, এই সফর হয়তো দ্বিতীয় দফার আলোচনায় মোড় নেবে।
লেভিট শুক্রবার ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, ‘ইরানিরাই যোগাযোগ করেছে, প্রেসিডেন্ট যেমনটা আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা আশাবাদী, এটি ফলপ্রসূ আলোচনা হবে এবং একটি চুক্তির দিকে আমাদের এগিয়ে নেবে।’
তবে শনিবার ইসলামাবাদ থেকে ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রস্থান মানেই যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে, তা নয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তেহরান আগেই জানিয়েছিল, ইসলামাবাদে আলোচনার পর তাদের প্রতিনিধি ওমান ও রাশিয়া সফর করবে। সেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নতুন প্রস্তাব তৈরির ক্ষেত্রে সমর্থন চাইতে পারে।
যদি কোনো সমঝোতা হয়, তাহলে ইরান ভবিষ্যতে আবারও শান্তি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে ফিরে আসতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো সম্মতি দেয়নি।