নির্ধারিত নম্বর, প্রশ্ন কাঠামো ও মূল্যায়নে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা
নির্ধারিত নম্বর, প্রশ্ন কাঠামো ও মূল্যায়নে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা; দক্ষতা মূল্যায়নকে প্রাধান্য
ঢাকা, মে ২০২৫: বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে পরীক্ষার নতুন যুগ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন কাঠামো, সময়সীমা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় রকমের পরিবর্তন আনা হবে। পরীক্ষার মূল লক্ষ্য থাকবে ‘জ্ঞানের মুখস্থ উত্তর’ নয়, বরং ‘দক্ষতা ভিত্তিক মূল্যায়ন’ নিশ্চিত করা।
মূল পরিবর্তনসমূহ কী থাকছে?
MCQ কমে যাচ্ছে, বেড়েছে বর্ণনামূলক ও বিশ্লেষণভিত্তিক প্রশ্ন:
নতুন নীতিমালায় এমসিকিউ অংশ ৩০% থেকে কমিয়ে ২০% করা হচ্ছে। তার বদলে বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নের অনুপাত বাড়ানো হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা চিন্তাশক্তি ও বাস্তব জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারে।
উত্তরপত্র মূল্যায়নে রুব্রিক স্কোরিং:
শিক্ষকদের জন্য থাকবে নির্ধারিত স্কোরিং গাইডলাইন বা রুব্রিকস, যাতে সঠিকভাবে উত্তর যাচাই করা যায় এবং মূল্যায়নে স্বচ্ছতা থাকে।
বিকল্প প্রশ্নের সংখ্যা কমবে:
ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্তি কমাতে প্রতিটি প্রশ্নপত্রে বিকল্প প্রশ্ন কমিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রতিটি প্রশ্ন হতে হবে দক্ষতা ও বিশ্লেষণভিত্তিক।
সময়ের দৈর্ঘ্যে সামান্য পরিবর্তন:
কিছু বিষয়ের পরীক্ষার সময় ৩ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ২.৫ ঘণ্টা করা হতে পারে, যাতে মানসিক চাপ কমানো যায়।
কেন এই পরিবর্তন?
বহু বছর ধরেই দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে মুখস্থভিত্তিক প্রশ্ন ও নির্ধারিত উত্তর মডেলের কারণে সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশ পাচ্ছিল না। নতুন শিক্ষা কারিকুলামের আলোকে পরীক্ষার কাঠামোতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এছাড়াও, শিক্ষা গবেষণায় উঠে এসেছে যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তারা প্রকৃত দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে থাকে। এ কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়নকে অগ্রাধিকার দিতে চাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
প্রথমদিকে কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও, অনেকে মনে করছেন এর ফলে বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জন সহজ হবে। বিশেষ করে যারা বিশ্লেষণ ও লেখার দক্ষতায় শক্তিশালী, তাদের জন্য এই কাঠামো হবে সুফল বয়ে আনার সুযোগ।
চ্যালেঞ্জও রয়েছে বাস্তবায়নে
যদিও এই পরিবর্তন প্রশংসনীয়, বাস্তবায়নে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষকরা দক্ষতা ভিত্তিক প্রশ্ন তৈরি বা মূল্যায়ন করতে পারবেন না। সেইসাথে পরীক্ষার সময়, প্রশ্ন প্রস্তুতি ও ফলাফল যাচাইয়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়া এই রূপান্তর সফল হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়নকাল
২০২৫ সালে প্রাথমিকভাবে ২০টি স্কুল ও কলেজে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন কাঠামো চালু করা হবে। সফল হলে ২০২৬ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে।