প্রতি বছরের মত এবারও দর্শকের প্রিয় ম্যাগাজিন ইত্যাদি সেজেছে বর্ণিল সাজে। বরাবরের মত এবারও ইত্যাদি শুরু করা হয়েছে-‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ এই গানটি দিয়ে।
এবারের ঈদের বিশেষ ইত্যাদির সব বিষয়ের মধ্যে একটি বিশেষ পর্ব হচ্ছে দেশাত্মবোধক গান। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন নন্দিত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, আর তার সঙ্গে রয়েছে জনপ্রিয় ছয়জন কণ্ঠ তারকা মনির খান, আগুন, রবি চৌধুরী, ফাহমিদা নবী, আঁখি আলমগীর ও প্রিয়াংকা গোপ। গানটির কথা লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, মূল সুর আলী আকবর রুপুর, সংগীত পরিচালনায় উজ্জ্বল সিনহা। আর গানটির নির্মাণে বৈচিত্র্য আনার জন্য ছিল এস কে জাহিদের পরিচালনায় অর্ধ শতাধিক নৃত্যশিল্পীর কোরিওগ্রাফি।
এবারের ঈদের ইত্যাদিতে একটি ব্যতিক্রমধর্মী গান গেয়েছেন জনপ্রিয় সংগীত তারকা হাবিব ওয়াহিদ। কথা লিখেছেন এস এ হক অলিক। গানটির সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন হাবিব ওয়াহিদ নিজেই।
চলচ্চিত্র তারকা শবনম বুবলী এবং সংগীত শিল্পী ইমরান মাহমুদুলের কণ্ঠে আছে গান। এই গানটির মাধ্যমেই বুবলীর গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটবে। গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল। সুর ও সংগীত করেছেন ইমরান মাহমুদুল।
নাচে অংশগ্রহণ করেছেন চলচ্চিত্র তারকা তমা মির্জা ও টিভি তারকা জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। নৃত্য পরিচালনা করেছেন ইভান শাহরিয়ার সোহাগ।
ঈদ ইত্যাদির বিভিন্ন নান্দনিক ও মজার পর্বের মধ্যে একটি হচ্ছে মিউজিক্যাল ড্রামা। এবারের ঈদে নানা শ্রেণি ও বিত্তের ঈদ কেনাকাটার সমস্যা নিয়ে থাকবে তিনটি মিউজিক্যাল ড্রামা। আর এতে অভিনয় করেছেন দেশের অভিনয় তারকা-তৌসিফ মাহবুব, সারিকা সাবরিন, সজল নূর, কুসুম শিকদার, আরফান আহমেদ ও নাসির উদ্দিন খান। একটি মিউজিক্যাল ড্রামায় অভিনয় করেছেন দেশের অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজী সিদ্দিকী এবং তাদের সঙ্গে বিক্রেতা হিসাবে আছেন ইকবাল হোসেন ও শাওন মজুমদার। মিউজিক্যাল ড্রামাগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন আকাশ মাহমুদ, রাজিব, পুলক অধিকারী, মৌরী, নোশিন তাবাসসুম স্মরণ ও তানজিনা রুমা। সংগীত পরিচালনা করেছেন মেহেদী ও আকাশ মাহমুদ।
সমাজের চারিদিকে জালের মত ছড়িয়ে থাকা মিথ্যে ও দুর্নীতির ভিড়ে লুকিয়ে থাকা নীতি নৈতিকতা ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবারের দলীয় সংগীত। অংশগ্রহণ করেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শরীফুল রাজ এবং মডেল-অভিনেত্রী সাবিলা নূর। গানটির কথা লিখেছেন খ্যাতিমান গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী। কণ্ঠ দিয়েছেন রাজিব ও তানজিনা রুমা। নৃত্যে অংশগ্রহণ করেছে ইত্যাদির নিয়মিত নৃত্যশিল্পীদল। নৃত্য পরিচালনা করেছেন ইত্যাদির নৃত্য পরিচালক মামুন।
ঈদ ইত্যাদির আরেকটি দর্শকপ্রিয় পর্ব বিদেশিদের পর্ব। প্রায় দুই যুগ ধরে ইত্যাদিতে বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণে আমাদের লোকজ সংস্কৃতি, গ্রামীণ খেলাধুলা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নিয়মিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশিদের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের সংস্কৃতি। নাচ-গান ও গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তুখোড় অভিনয় সমৃদ্ধ এবারের পর্বের বিষয় ‘লোভী ও সুবিধাবাদী দ্বিমুখী স্বভাবের মানুষ’ নিয়ে।
এবারের ঈদ ইত্যাদির দর্শকপর্বে অতিথি হিসেবে থাকছেন শক্তিমান অভিনেতা মোশাররফ করিম। তুখোড় এই অভিনেতা ইত্যাদিতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিনয় করেছেন দর্শকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত চারজন দর্শকের সঙ্গে।
এছাড়াও রয়েছে ঈদকে ঘিরে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ের উপর ডজনখানেক নাট্যাংশ।
ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। ঈদের বিশেষ ইত্যাদি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হবে ঈদের পরদিন রাত আটটার বাংলা সংবাদের পর।