টালিগঞ্চের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল বন্দোপাধ্যায়ের ময়না তদন্ত শেষ হওয়ার পরই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তার মৃত্যুর ভয়াবহতার চিত্র। প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে একাধিক আশঙ্কাজনক তথ্য, যা নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে টালিউড পরিবার, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাহুলের শরীরের ভেতরে যে চিত্র পাওয়া গেছে, তা কোনও সাধারণ ডুবে যাওয়ার ঘটনা নয়। তার ফুসফুসে জমে ছিল অস্বাভাবিক পরিমাণ বালি ও নোনা পানি। যে কারণে তার ফুসফুসের আকার ফুলে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল।
শুধু তাই নয়, খাদ্যনালিতেও মিলেছে বালি ও নোনা পানি। চিকিৎসকদের স্পষ্ট বক্তব্য, অল্প সময় জলে থাকলে এমনটা হয় না। অর্থাৎ, রাহুল অনেকক্ষণ পানির নীচে ছিলেন। সম্ভবত এক ঘণ্টারও বেশি।
চিকিৎসক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের শারীরিক অবস্থা ইঙ্গিত দেয় যে, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় জলের নিচে থাকার ফলেই শরীরের বিভিন্ন অংশে নোনাজল প্রবেশ করে এমন পরিস্থিতির হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই তথ্যটাই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। কারণ, ঘটনাস্থলের একাধিক বয়ান বলছে, দুর্ঘটনার পর খুব দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছিল তাকে। কিন্তু ময়না তদন্ত যেন সেই দাবি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। যদি সত্যিই দ্রুত উদ্ধার করা হয়ে থাকে, তবে শরীরে এত বিপুল পরিমাণ জল ও বালি এল কীভাবে?
এখানেই খুলছে নতুন প্রশ্নের দরজা। উদ্ধার করতে দেরি হয়েছিল? নাকি তাকে খুঁজে পেতেই অনেকটা সময় লেগে যায়? প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘ সময় তাকে দেখা যায়নি। আবার প্রোডাকশন টিমের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। এই দ্বন্দ্বই এখন তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় ধাঁধা।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, রাহুলের শরীর থেকে ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। তা পাঠানো হয়েছে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য। তাঁর শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ছিল কি না, সেটাও এখন পরীক্ষাধীন। যদিও প্রাথমিক রিপোর্টে সেই বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি, তবু তদন্তকারীরা কোনো সম্ভাবনাকেই এখনই উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
সব মিলিয়ে, রাহুলের এই মৃত্যুর ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনার গল্প নয়। এটা সময়ের হিসাব মেলানোর, উদ্ধার প্রক্রিয়ার প্রশ্নের গল্প, আর একের পর এক অসঙ্গতির জটিল সমীকরণ। যতই তথ্য সামনে আসছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে, ঘটনাটা যতটা সরল মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা নয়।
ময়না তদন্তের পরই লাশবাহী গাড়িতে করে রওনা দেয় অভিনেতার নিথর দেহ, গন্তব্য তার প্রিয় বিজয়গড়ের বাড়ির উদ্দেশে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেই ঠিকানার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল তার আবেগ, সেই বাড়িতেই ফিরবেন তিনি। তবে আর জীবিত নয়, নিঃশব্দে, শেষবারের মতো।