বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মিয়ানমারে পাঠানো রোহিঙ্গাদের তালিকার মধ্যে এ পর্যন্ত তিন লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জনের তথ্য যাচাই করতে পেরেছে দেশটি। এর মধ্যে দুই লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ জনকে মিয়ানমার তাদের পূর্বে বসবাসকারী ব্যক্তি বা নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে তথ্য যাচাইকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ছয়টি ধাপে আট লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সাড়ে তিন লাখ মানুষের তথ্য যাচাই করেছে এবং আড়াই লাখের বেশি মানুষকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ চলমান সংঘাতের কারণে এখনই প্রত্যাবাসন শুরু করা যাচ্ছে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হচ্ছে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ লক্ষ্যে নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলা পরিচালনায় বাংলাদেশ আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ইউরোপ ও আমেরিকার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে নতুন বাজার অনুসন্ধানে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের ওপর এককেন্দ্রিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে বহুমাত্রিক রপ্তানি কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নোয়াখালী-৫ আসনের মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ফলে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যেও জিসিসিভুক্ত দেশসমূহ এবং ইরান, উভয় পক্ষই বাংলাদেশকে বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করছে।’