জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা চলছে রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে। ২২ মে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে আগামী ২৪ মে পর্যন্ত।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে নজরুলের বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও নারী জাগরণের চেতনা তুলে ধরা হচ্ছে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে। ‘জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা’, ‘বুলবুলি তুই ফুলশাখাতে দিস নে আজি দোল’ এবং ‘বল বীর-বিদ্রোহী’সহ কবির কালজয়ী সৃষ্টিকর্মে মুখর হয়ে উঠেছে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুশফিক ফজল আনসারী। মুখ্য আলোচক ছিলেন সাংবাদিক, কবি ও লেখক হাসান হাফিজ এবং আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নজরুল গবেষক ড. ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান। বক্তারা বলেন, শোষণ, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলমান থাকা পর্যন্ত নজরুল মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ।
সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পী, আবৃত্তিকার ও নৃত্যশিল্পীরা। সমবেত নৃত্য ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর নজরুলসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যনাট্যের পরিবেশনায় জমে ওঠে আয়োজন।
আজ ২৩ মে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ. কে. এম. আবদুল্লাহ খান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল। মুখ্য আলোচক হিসেবে থাকবেন নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন।
এদিকে জাতীয় পর্যায়ের আয়োজনের পাশাপাশি দেশের সব জেলা শিল্পকলা একাডেমিতেও নজরুল স্মরণে আলোচনা, সংগীত, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।