প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ৩:৫৭:৪১
মিস ইউনিভার্সের ৭৪তম আসরে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। পিপলস চয়েসে এখনও সেরার অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এবারের আসরে ১০ লাখ ৩৯ হাজার ভোট পেয়ে সবার শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা প্রতিযোগী তানজিয়া জামান মিথিলা।
এবার বিশ্বের সামনে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্প জামদানি শাড়িকে। মিথিলার জাতীয় পোশাকটি দেশের রাজকীয় ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) নিজের অনুভূতি ও পোশাকের বিশেষত্ব প্রকাশ করে এক পোস্টে মিথিলা লিখেছেন, ‘মিস ইউনিভার্স মঞ্চের জাতীয় পোশাকটি সজ্জিত হয়েছে একটি রাজকীয় জামদানি শাড়িতে, যা বাংলাদেশের রাজকীয় ঐতিহ্যের এক জীবন্ত উত্তরাধিকার।’
মিথিলা বলছেন, ‘এটি এমন একটি কাপড়, যার প্রতিটি সুতোয় রয়েছে শিল্পকলা, নিষ্ঠা এবং চিরন্তন কমনীয়তা।’
বিশেষ এই শাড়িটির ডিজাইনার আফ্রিনা সাদিয়া সৈয়দা। শাড়িটি সম্পূর্ণ হাতে তৈরি এবং এটি সম্পূর্ণ করতে সময় লেগেছে ১২০ দিনেরও বেশি। মিথিলার পরা এই জামদানি শাড়িতে ফুটে উঠেছে স্নিগ্ধ শাপলা মোটিফ। শাপলা হলো বাংলাদেশের জাতীয় ফুল।
শুধু পোশাকেই নয়, মিথিলার সোনার গয়নাতেও শোভা পাচ্ছে একই শাপলা ফুল। ৬ ইয়ার্ডস স্টোরির লরা খান নকশা করেছেন এই গয়নার।
বাংলার কালজয়ী তাঁত থেকে উদ্ভূত এই জাতীয় পোশাকটি হাতে বোনা এক জামদানি শাড়ি যা সৌন্দর্য, ঐতিহ্য এবং স্থিতিস্থাপকতার এক জীবন্ত প্রকাশ। এর ঐতিহ্য শুরু হয় ১৭ শতকের মুঘল যুগ থেকে। সেসময় জামদানি ছিল রাণী ও অভিজাতদের কাছে মূল্যবান।
পোশাকটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে সেরা সুতির তন্তু। এটি সজ্জিত হয়েছে স্বর্ণালী জরি মোটিফে। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী তাঁতশিল্পীদের দ্বারা নিপুণভাবে বোনা হয়েছে এই বিশেষ শাড়িটি।
আগামী ২১ নভেম্বর থাইল্যান্ডের পাক ক্রেটে অনুষ্ঠিত হবে ৭৪তম মিস ইউনিভার্সের জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালে। এর আগে বাংলাদেশ থেকে ২০১৯ সালে শিরিন শিলা এবং ২০২৪ সালে আনিকা আলম অংশ নিলেও, ভোটিংয়ে মিথিলার এই সাফল্যকে মিস ইউনিভার্সে বাংলাদেশের জন্য নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।