প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ৩:৫৯:০১
বলিউডের স্বর্ণযুগের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেছে। ‘হি-ম্যান’ খ্যাত অভিনেতা ধর্মেন্দ্র সোমবার (২৪ নভেম্বর) মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ৮৯ বছরের জীবনে তিনি কেবল সিনেমার জগৎকে আলোকিত করেননি, ভক্তদের হৃদয়েও রেখে গেছেন অবিস্মরণীয় ছাপ। তার অভিনীত চরিত্রগুলো আজও পর্দায় জীবন্ত, এবং অনুরাগীদের স্মৃতিতে চিরস্থায়ী।
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে বলিউড শোবিজ অঙ্গন শোকাহত। গুণী পরিচালক করন জোহর ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, একটি যুগের অবসান, এক মহাতারকার প্রস্থান। ধর্মেন্দ্র ছিলেন অদ্বিতীয় প্রতিভার অধিকারী, একজন সত্যিকারের কিংবদন্তি। তার মানবিকতা ও অভিনয়ের গভীরতা চিরকাল আমাদের সঙ্গে থাকবে। তিনি আরও যোগ করেন, আজ ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এমন শূন্যতা পূরণ করা কখনো সম্ভব নয়। আমরা আপনাকে ভীষণ মিস করব।
অনেক দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন ধর্মেন্দ্র। ১১ নভেম্বর একবার তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল, কিন্তু তা ভুল প্রমাণিত হয়। সোমবার আবারও খবরটি ভাইরাল হয়, যখন অ্যাম্বুলেন্স তার বাড়িতে দেখা যায়। পরিবার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি, তবে শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই তার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।
ধর্মেন্দ্র কেওয়াল কৃষ্ণ দেওল জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর, পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার সাহনেওয়াল গ্রামে। ছোটবেলায় সিনেমার প্রতি তার আকর্ষণ ছিল অসীম। ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিনের ‘ট্যালেন্ট কনটেস্ট’-এ জয়ী হয়ে তিনি বড় পর্দায় পা রাখেন।
১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তী কয়েক বছরে ‘শোলা আউর শবনম’ (১৯৬১), ‘বন্দিনী’ (১৯৬৩), ‘ফুল আউর পাথর’ (১৯৬৬), ‘সত্যকাম’ (১৯৬৯) সিনেমার মাধ্যমে তিনি সত্যিকারের সুপারস্টার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। শুধু অভিনয় নয়, তার ব্যক্তিত্ব, মানবিকতা এবং প্রফেশনালিজম তাকে আজও বলিউডের ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।
ধর্মেন্দ্রের জীবন ও কীর্তি প্রমাণ করে, তিনি কেবল পর্দার নায়ক নন, বরং একটি যুগের প্রতীক। তার চলে যাওয়া শুধু বলিউড নয়, পুরো চলচ্চিত্রপ্রেমী বিশ্বকে শোকাহত করেছে।