দেশের সব সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা প্যাথলজি ও রোগনির্ণয় সেবা (ডায়াগনস্টিক সার্ভিস) নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সোসাইটি অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন বাংলাদেশের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘রোগ কোনো নির্দিষ্ট সময়ে হয় না, অথচ আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এক্স-রে বা আলট্রাসাউন্ডের মতো জরুরি সেবাগুলো নির্দিষ্ট সময়ের পর আর পাওয়া যায় না। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সেবা চালু করা প্রয়োজন।’
রোগনির্ণয় সেবার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে পেশাজীবনে চিকিৎসক মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, ‘রাত ১০টায় একজনের জরুরি আলট্রাসাউন্ড প্রয়োজন হলে তার স্বজনদের কী পরিমাণ ভোগান্তি পোহাতে হয়, তা ভুক্তভোগীরাই জানেন। জরুরি সময়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা না করা গেলে সঠিক চিকিৎসা ব্যাহত হয়।’
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুধু বরাদ্দ বা অর্থায়ন বাড়ালেই হবে না, বরং সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ তৈরি না হলে দামি মেশিন দিয়ে কোনো লাভ হবে না। আমাদের টেকনিশিয়ান, ইঞ্জিনিয়ার ও চিকিৎসক, সব পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে।’
প্রশিক্ষিত জনবল ধরে রাখাকে বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি জানান, ভালো সুযোগের অভাবে অনেকে বিদেশে চলে যাচ্ছেন। তাদের ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। এ ক্ষেত্রে বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের আগে দেশেই শক্তিশালী ভিত্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নিউক্লিয়ার মেডিসিন বা পরমাণু চিকিৎসাসেবা কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘রংপুর, রাজশাহী, খুলনা বা বরিশালের মানুষও কর দেয়। তাই সব আধুনিক সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। আমাদের খণ্ডিত নয়, সমন্বিত চিকিৎসায় বিশ্বাস করতে হবে।’
বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাহিদ হোসেন জানান, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর আস্থা কমলে মানুষ বিদেশে যায়, যাতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। এ আস্থা ফেরাতে পুরোনোদের অভিজ্ঞতা ও তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সোসাইটি অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন, বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফারিয়া নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান এম মঈনুল ইসলাম। দিনব্যাপী সম্মেলনে পরমাণু চিকিৎসার সমসাময়িক বিষয়ে অর্ধশতাধিক বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ উপস্থাপিত হয়। অনুষ্ঠানে ডা. ফরিদা ইয়াসমিনকে ‘ইয়াং সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।