বাংলাদেশের নার্সিং খাতে গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২১ সালে প্রতি ১,০০০ জনে নার্স ও মিডওয়াইফের সংখ্যা ছিল মাত্র ০.৬১৩, যা ২০২০ সালে ছিল ০.৪৮১। তবে এই অগ্রগতি সত্ত্বেও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী প্রতি ১০,০০০ জনে ১০ জন নার্সের যে মানদণ্ড, তা পূরণে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে।
বৈষম্যের ছায়া: নার্সিং পেশায় লিঙ্গভিত্তিক অসাম্য
নার্সিং পেশায় লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য একটি গুরুতর সমস্যা। বাংলাদেশে নার্সিং শিক্ষায় পুরুষদের জন্য কোটা মাত্র ১০%, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG 5 ও SDG 10) এর পরিপন্থী।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ নার্সরা কর্মস্থলে বৈষম্যের শিকার হন, যেমন সমান বেতন না পাওয়া, পদোন্নতির সুযোগ কম, এবং কর্মক্ষেত্রে স্বীকৃতির অভাব।
কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা
নার্সদের জন্য কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭০% নার্স কর্মস্থলে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হন।
জাতীয় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক তাসলিমা বেগম বলেন, “নার্সদের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু তাদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে না।”
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা: পথ খুঁজে বের করার সময়
বাংলাদেশের নার্সিং খাতে কিছু প্রধান চ্যালেঞ্জ:
তবে, কিছু সম্ভাবনাও রয়েছে:
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ড. মাকসুরা নূর, ডিরেক্টর জেনারেল, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বলেন, “নার্সদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে আমাদের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
কানাডার হাই কমিশনের প্রথম সচিব এডওয়ার্ড ক্যাব্রেরা বলেন, “নার্সদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে তারা তাদের পেশাগত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেন।”
নার্সিং খাতের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন
বাংলাদেশের নার্সিং খাতে অগ্রগতি সত্ত্বেও, বৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা, এবং প্রশিক্ষণের মানের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় সরকার, বেসরকারি খাত, এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
নার্সরা আমাদের স্বাস্থ্যখাতের মেরুদণ্ড। তাদের সম্মান, নিরাপত্তা, এবং পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের সকলের দায়িত্ব।