বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দুই উপ-পরিচালক সঞ্জিব কুমার সিংহ ও এসএম আফজাল রেজাকে ঢাকার বাইরে বদলির আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে হাইকোর্ট বিভাগ ওই বদলির আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করে বলে নাগরিক প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।
জানা গেছে, বিটিআরসিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে রাজস্ব খাতের বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সেই কর্মকর্তাদের তাড়াহুড়ো করে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট পিটিশনের বাদী বিটিআরসির ছয়জন উপ-পরিচালক। উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়েরের পরপরই ওই ছয় উপ-পরিচালকের মধ্যে দুজন—সঞ্জিব কুমার সিংহ ও এসএম আফজাল রেজাকে ঢাকার বাইরে বদলির ঘটনায় বিটিআরসিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। বিভিন্ন পত্রিকায় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের বদলি করা হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এ অবস্থায় দুই উপ-পরিচালক হাইকোর্টে বদলির আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন দায়ের করেন।
রিটে উল্লেখ করা হয়, রিট পিটিশন দায়ের করার প্রেক্ষিতে তারা বিটিআরসিতে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়ে আসছিলেন। বিটিআরসির বিভিন্ন বেআইনি নিয়োগ বিষয়ে প্রতিকার চাওয়ায় তারা উচ্চ মহলের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় অল্প সময়ের মধ্যে তাদের দুজনকেই একাধিক বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তবে এবার তাদের ঢাকার বাইরে সরকারের অননুমোদিত সিলেট ও রংপুরে অবস্থিত মনিটরিং স্টেশনে বদলি করা হয়। এছাড়া যেখানে বদলি করা হয়ে, তা তাদের পদক্রমের নিম্ন পর্যায়ের দায়িত্ব। এছাড়া, উপ-পরিচালক পদের কর্মকর্তাদের এ ধরনের বদলির আদেশ বিটিআরসির ইতিহাসে এবারই প্রথম।
বিটিআরসির প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম এবং ২০০৮ সালে প্রণীত পদ সৃজন আদেশের কোথাও মনিটরিং স্টেশনে উপ-পরিচালক পদ বলে কিছু উল্লেখ নেই। এছাড়া, যেহেতু বিটিআরসির আইন মেনে ঢাকার বাইরে সরকার-অনুমোদিত বিটিআরসির কোনো শাখা অফিস নেই, সেহেতু কর্তৃপক্ষ ওই স্থানে কোনো পূর্ণকালীন বদলির আদেশ দিতে পারে না মর্মে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রিট শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী এবং বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ বিটিআরসির মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক স্বাক্ষরিত ৩১ মার্চ ২০২৬ এবং ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের বদলির আদেশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এছাড়া হাইকোর্ট ১৬ অক্টোবর ২০২৫ এবং ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের বদলির আদেশের কার্যকারিতা আগামী দুই মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন।
রিট পিটিশনে বিবাদী করা হয়েছে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অডিট উইং-এর যুগ্ম পরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক, প্রশাসন বিভাগের পরিচালক ও মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালককে। আদালতে রিট পিটিশনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।
উল্লেখ্য, বিটিআরসিতে কর্মরত ছয় উপ-পরিচালক সঞ্জিব কুমার সিংহ, কাজী মোঃ আহসানুল হাবীব, মোঃ জাকির হোসেন খান, এসএম আফজাল রেজা, মোঃ আসিফ ওয়াহিদ, মোঃ হাসিবুল কবির বিটিআরসিতে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়াদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের চিঠির আলোকে আইনগত ব্যবস্থার জন্য এবং সিরিয়াস ফিন্যান্সিয়াল ইরেগুলারিটি (এসএফআই) তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ গত ৫ মার্চ শুনানি শেষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পাঠানো গত ১৬ অক্টোবর ২০২৫ এবং ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের চিঠি অনুসারে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে এবং একই সঙ্গে এসএফআই তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের পদোন্নতির জন্য গত ৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে গঠিত ডিপিসির কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।