বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করা হয়। বর্তমানে তিনি আদালতের হাজতখানায় রয়েছেন।
এর আগে শনিবার (৩ অক্টোবর) একই মামলায় আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন।
মামলাটি করা হয়েছে গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনার জেরে। মামলার এজাহারে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদের সঙ্গে আখতারুজ্জামানের বাগবিতণ্ডা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ায় এক নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে অসদাচরণ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও রয়েছে এজাহারে।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে বিমানবন্দর থানার ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
শনিবার আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘নির্যাতন দিয়ে আমাদের সংগ্রাম থামানো যাবে না।’ রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের মিসম্যানেজমেন্ট আর চলতে পারে না। এভাবে রাষ্ট্র চলতে পারে না।’
আদালতে নেওয়ার সময় তার হাতে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরানোর চেষ্টা করা হলে তিনি আপত্তি জানান। পরে হেলমেট খুলে ছুড়ে ফেলেন তিনি। এ সময় তাকে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
রিমান্ড শেষে রোববার আদালতে হাজিরের পর মামলায় পরবর্তী কী আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা জানা যাবে শুনানি শেষে।