জনতা ব্যাংক থেকে ঋণের নামে প্রায় ১৩৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় চারদিনের রিমান্ডের প্রথম দিনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় তাকে পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যানে করে কমিশনে আনা হয়। সকালে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে জনতা ব্যাংক পিএলসির এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। দুদক জানায়, কমিশনের ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৭এ/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলাটি করা হয়।
দুদকের পক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতে জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে স্কাইনেট অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের একটি নবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে জনতা ব্যাংক পিএলসি থেকে ইডিএফসহ ঋণ সুবিধা গ্রহণ করা হয়। পরে বেক্সিমকো গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাক টু ব্যাক এলসির মাধ্যমে কাগুজে আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা (১ মার্কিন ডরার ৯৩ টাকা হিসেবে, ২০২২ সালের গড় হার অনুসারে) আত্মসাৎ করা হয় বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিদেশি সেলস কন্ট্রাক্টের বিপরীতে যেসব এলসি খোলা হয়, সেগুলো ইস্যু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেডিং এফজেডই, যা আসামির ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের মালিকানাধীন।
সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সালমান এফ রহমানকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে দুদক পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে রিমান্ড কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
সালমান এফ রহমান বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন থানার মোট ১৮টি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন।