আনন্দ, উত্তেজনা, প্রিয়জনের সান্নিধ্য আর টেবিলভর্তি নানা খাবার—বাঙালির উৎসব মানেই এই চেনা ছবি। তার ওপর যদি পহেলা বৈশাখ হয়, উৎসবের আমেজ যেন আরও বেড়ে যায়। বাঙালি সাজ, ঐতিহ্যবাহী খাবার, আর মিষ্টির বাহার—হালখাতা হোক বা বাড়িতে অতিথি আপ্যায়ন, মিষ্টিমুখ যেন অবধারিত। আর সেখান থেকেই শুরু হতে পারে বিপত্তি। লোভ সামলাতে না পারলেই সমস্যা, বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য এমন দিনগুলো বেশ চ্যালেঞ্জের।
এই আনন্দঘন সময়েই শরীরের ভেতরে নীরবে চলতে থাকে আরেকটি প্রক্রিয়া—রক্তে শর্করার ওঠানামা। ডায়াবেটিস থাকলে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট বা চিনি গ্রহণে ইনসুলিনের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই উৎসবের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি শরীরের এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো বোঝাও জরুরি। সামান্য পরিকল্পনা আর সচেতনতা থাকলে পহেলা বৈশাখের আনন্দ ও সুস্থতার মধ্যে সহজেই ভারসাম্য রাখা সম্ভব। ডায়াবেটিসের রোগীরা পহেলা বৈশাখে কীভাবে নিজেদের সুস্থ রাখবেন—এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের বিস্তারিত পরামর্শ রয়েছে:
১. উৎসবের দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো খাবারের লোভ সামলানো। মিষ্টি থেকে শুরু করে পোলাও বা পান্তা ভাত—সব মিলিয়ে নানা পদ থাকে টেবিলে। ডায়াবেটিস থাকলে এসব এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে একেবারে বাদ না দিয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাই মূল বিষয়। অল্প অল্প করে খাওয়া এবং মিষ্টির ক্ষেত্রে শুধু স্বাদ নেওয়াই নিরাপদ। এতে শর্করা একসঙ্গে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
২. দিনের শুরু হোক হালকা ও পুষ্টিকর নাশতা দিয়ে। ওটস, ডিম, শাকসবজি বা অল্প রুটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। খালি পেটে মিষ্টি বা ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলা জরুরি।
৩. উৎসবে খাওয়ার সময় অনিয়ম হয়ে যায়। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ বিরতি দিয়ে হঠাৎ বেশি খেলে শর্করা বেড়ে যেতে পারে। তাই অল্প অল্প করে বারবার খাওয়াই ভালো। আর যদি খুব দেরি করে বা রেস্তোরাঁয় গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ করা হয়, সে ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে বিকেলে ও সন্ধ্যায় কিছু না খাওয়াই ভালো।
৪. শরীরচর্চা অবহেলা করা ঠিক নয়। খাওয়ার পর হালকা হাঁটা রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। দুপুরে গরমে বাইরে হাঁটা কঠিন হলে ঘরের ভেতর বা বারান্দায় হাঁটাও উপকারী। মিষ্টি খেলে অবশ্যই হাঁটতে হবে। খাবারের পরিমাণ যত বাড়বে, হাঁটার পরিমাণও ততই বাড়বে।
৫. পানি খাওয়ার দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। উৎসবের ব্যস্ততায় অনেক সময় পানি কম খাওয়া হয়। খাবারের আগে পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৬. সারাদিন ধরে বারবার মিষ্টি খাওয়া ঠিক নয়। দিনে একবার অল্প (১–২টি) মিষ্টি খাওয়াই নিরাপদ। এরপর অবশ্যই হাঁটা উচিত।
৭. মিষ্টি বেশি খেলে ভাত-রুটির পরিমাণ কমিয়ে সবজি বেশি খেয়ে ফাইবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে, যাতে শর্করা হঠাৎ বেড়ে না যায়।
৮. দুপুরে মিষ্টি খাওয়ার আগে চাইলে আধা ঘণ্টা আগে পানিতে অল্প অ্যাপল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
৯. বিকল্প হিসেবে সীমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট (৭০ শতাংশ কোকো বা বেশি) খাওয়া যেতে পারে, যা তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা