সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণা রয়েছে সমাজে। বিশেষ করে যাদের স্বামী বা স্ত্রী সাংবাদিক, তাদের অনেকেই মজার ছলে অভিযোগ করেন— সাংবাদিকরা নাকি সব বিষয়ে মতামত দিতে ভালোবাসেন এবং সবসময় নিজেদের জ্ঞান প্রকাশের চেষ্টা করেন। এমনকি অনেকের মুখে শোনা যায়, ‘যাকে খুশি বিয়ে করো, কিন্তু সাংবাদিককে নয়।’
তবে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা সেই প্রচলিত ধারণার বিপরীত ছবি তুলে ধরেছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রেমিক বা প্রেমিকা হিসেবে অন্যান্য অনেক পেশার মানুষের তুলনায় সাংবাদিকরা বেশি নির্ভরযোগ্য এবং উপযুক্ত সঙ্গী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। এর বেশ কিছু কারণও রয়েছে।
সৃজনশীল ও প্রাণবন্ত সঙ্গী
সাংবাদিকরা প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ ও ঘটনার মুখোমুখি হন। ফলে তাদের চিন্তাভাবনা হয় বৈচিত্র্যময় ও সৃজনশীল। তাদের সঙ্গে সময় কাটালে একঘেয়েমি ভর করার সুযোগ কম থাকে।
সবসময় আপডেট থাকা যায়
দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, সমসাময়িক ইস্যু ও আলোচিত বিষয় সম্পর্কে সাংবাদিকরা দ্রুত অবগত হন। তাদের সঙ্গে থাকলে আপনিও নানা বিষয়ে আপডেট থাকতে পারবেন।
বিশ্ব রাজনীতি থেকে শুরু করে খেলাধুলা, প্রযুক্তি কিংবা বিনোদন, প্রায় সব বিষয়েই তাদের কিছু না কিছু জানাশোনা থাকে। তাই তাদের সঙ্গে কথা বলার বিষয় খুব সহজে ফুরায় না।
মাল্টিটাস্কিংয়ে দক্ষ
একসঙ্গে অনেক কাজ সামলানো সাংবাদিকদের নিত্যদিনের অভ্যাস। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও তারা সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেন।
ভালো শ্রোতা
পেশাগত কারণে মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হয় তাদের। ফলে সম্পর্কেও তারা সঙ্গীর কথা ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে জানেন।
ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে সম্মান করেন
নিজেদের ব্যস্ততার কারণে সাংবাদিকরা ব্যক্তিগত সময় ও স্পেসের গুরুত্ব বোঝেন। তাই তারা সাধারণত সঙ্গীর স্বাধীনতাকে সম্মান করেন।
বিশ্বাস ও গোপনীয়তার মূল্য বোঝেন
তথ্যের নিরাপত্তা ও সূত্রের গোপনীয়তা রক্ষা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে তারা বিশ্বাস ও আস্থার গুরুত্ব ভালোভাবে উপলব্ধি করেন।
নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ
বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন, প্রিমিয়ার শো কিংবা বিশেষ ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ সাংবাদিকদের বেশি থাকে। অনেক সময় তাদের সঙ্গীরাও সেই অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারেন।
কঠোর পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল
সংবাদ সংগ্রহ থেকে শুরু করে তথ্য যাচাই- সব ক্ষেত্রেই পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধের প্রয়োজন হয়। এই গুণগুলো তাদের ব্যক্তিগত জীবনেও প্রতিফলিত হয়।
কাজের প্রতি গভীর ভালোবাসা
সাংবাদিকতার পেশায় অধিকাংশ মানুষ অর্থের চেয়ে কাজের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধকে বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে তারা নিজের কাজ এবং সম্পর্ক- দুই ক্ষেত্রেই আন্তরিক হওয়ার চেষ্টা করেন।
বিশ্বস্ততার জন্য পরিচিত
বিশ্বাস রক্ষা ও দায়িত্বশীল আচরণ সাংবাদিকতার অন্যতম ভিত্তি। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই গুণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে, সাংবাদিকদের নিয়ে প্রচলিত কিছু অভিযোগ থাকলেও, সম্পর্ক ও দাম্পত্য জীবনে তাদের বেশ কিছু ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সমীক্ষার ফলাফলও সেই ধারণাকেই আরও জোরালো করেছে।