চলছে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬, ফুটবল উন্মাদনায় মেতে আছে বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক। সময়ের পার্থক্যের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রাত জেগে দেখতে হচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের। প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে গিয়ে অনেকেই হারাচ্ছেন নিয়মিত ঘুমের সময়, যার প্রভাব পড়ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়।
ঘুম কম হওয়ার ফলে ক্লান্তি, ঝিমুনি, মনোযোগের অভাব ও কর্মক্ষমতা হ্রাস খুব সাধারণ সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এক রাত জেগে থাকার কারণে পুরো দিনটিকে অকার্যকর করে ফেলার প্রয়োজন নেই। কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে রাত জাগার পরও পরদিন সকালেই শরীরকে অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
ঘুমের পরিকল্পনা বেছে নিন আগে থেকেই
ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, রাত জেগে খেলা দেখার জন্য তিনটি কৌশল সবচেয়ে বেশি কার্যকর,
১. সম্পূর্ণ রাতভিত্তিক রুটিন পরিবর্তন
কিছু মানুষ বিশ্বকাপ চলাকালে সম্পূর্ণভাবে রাতের সময়সূচিতে চলে যান। এতে কিছুদিন লাগলেও শরীর অভ্যস্ত হয়ে যায়।
২. দুই ভাগে ঘুম
খেলা শুরুর আগে কিছুটা ঘুমিয়ে নেওয়া ও খেলা শেষে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। এতে ক্লান্তি কিছুটা কম থাকে।
৩. অল্প ঘুমে সামঞ্জস্য করা
সারা রাত জেগে খেলা দেখে পরে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে দিনের কাজ চালানো। তবে এটি সহজ হলেও শরীরের ওপর চাপ ফেলে।
রাত জাগার পর শরীরের ওপর প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম ঘুম হলে পরদিন মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, মনোযোগ কমে যায় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের প্রবণতাও বেড়ে যেতে পারে। তাই রাত জাগার পর গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা বড় কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ক্যাফেইন ব্যবহারে সতর্কতা
চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক সাময়িকভাবে সতেজতা দিলেও অতিরিক্ত গ্রহণ ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই খেলা শুরুর আগে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ না করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমিত রাখা ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগে শেষ ক্যাফেইন গ্রহণ করা উচিত।
সংক্ষিপ্ত ঘুম হতে পারে উপকারী
দুপুরের দিকে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ছোট ঘুম শরীরকে পুনরায় সতেজ করতে সাহায্য করে। তবে বেশি সময় ঘুমালে ঘুমঘুম ভাব বেড়ে যেতে পারে।
শিশু ও পরিবার নিয়েও ভাবনা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট শিশুদের নিয়মিত রুটিন নষ্ট করা উচিত নয়। তবে কিশোরদের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা রাখা যেতে পারে, যদিও এতে তাদের ঘুমের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।
বিশ্বকাপ উপভোগ করা যেমন আনন্দের, তেমনি শরীরের যত্ন নেওয়াও জরুরি। সামান্য পরিকল্পনা ও অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে রাত জাগার পরের ক্লান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ফলে প্রিয় খেলা উপভোগের পাশাপাশি পরের দিনও রাখা যাবে শরীর ও মনকে ফিট ও সতেজ।
তথ্যসূত্র: বিবিসি