প্রকাশিত : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ৮:২০:৩৭
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে অনেকেই তো নাস্তাটা পর্যন্ত করার সময় পান না। তাড়াহুড়োর মধ্যে এক কাপ কফি আর বিস্কুট খেয়ে বেরিয়ে যান। চিন্তা করেন অফিসে পৌঁছে নাস্তা করবেন। আপনার যদি এ ধরনের কোনো অভ্যাস থেকে থাকে আজই পরিবর্তন করে ফেলুন।
কারণ এই অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সকালের নাস্তা কখনই এড়িয়ে চলা উচিত নয়। দিনের প্রথম খাবারটা প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়া উচিত, যাতে কাজ করার এনার্জি মেলে। এ ছাড়া খালি পেটে কফি খাওয়ার অভ্যাস আরও খারাপ।
পেটের সমস্যা:
খালি পেটে কফি খেলে হজমশক্তি নষ্ট হতে পারে। এই অভ্যাস অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা ডেকে আনতে পারে। অনেকের ধারণা গরম ব্ল্যাক কফি খেলে শক্ত মল নরম হয়ে যায়। এই ধারণা একেবারেই ভুল। বরং, দিনের পর দিন সকালে খালি পেটে কফি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়তে পারে। এই পানীয় শরীরকে গরম করে দেয় এবং মলত্যাগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি হয়।
এসিডিটি:
কফির মধ্যে থাকা ক্যাফেইন এবং অ্যাসিডিক উপাদানগুলি পেটের অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা এসিডিটি সৃষ্টি করতে পারে। খালি পেটে কফি খেলে এটি আরো তীব্র হতে পারে।
পেটের ব্যথা:
কিছু লোক খালি পেটে কফি খাওয়ার পর পেটে ব্যথা অনুভব করেন, কারণ কফি পাকস্থলীতে এসিড উৎপাদন বাড়ায়। এটি খালি পেটে আরও বেশি মাত্রায় বাড়ে। তাই খালি পেটে কফি এড়িয়ে চলুন।
ডিহাইড্রেশন:
খালি পেটে কফি খেলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যেতে পারে। কফির মধ্যে ক্যাফেইন থাকে, যা শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি করে। শীত হোক বা গ্রীষ্ম, এই অভ্যাস ক্লান্তি, দুর্বলতা, পেশিতে ক্র্যাম্পের মতো সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
মানসিক চাপ:
কফি খেলে সকালের ঘুম ছাড়ে। কাজ করার এনার্জিও মেলে। কিন্তু সেটা সাময়িক। বরং, খালি পেটে কফি খাওয়ার অভ্যাস স্ট্রেস, অ্যাংজ়াইটি ডেকে আনে। আসলে ঘুম থেকে উঠলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে। এই হরমোন স্ট্রেস লেভেল বাড়ায়। তাই এটি খালি পেটে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়:
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, খালি পেটে কফি খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। খালি পেটে কফি খেলে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা নষ্ট হয় এবং এর জেরে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যতই আপনি চিনি ছাড়া কফি খান, তাও এটি খালি পেটে না খাওয়াই ভালো।
দিনের কোন সময়ে প্রথম কফি খাবেন?
দিনের শুরুতে খালি পেটে পানি খেতে পারেন। এতে পেট সাফ হয় এবং শরীর হাইড্রেটেড থাকে। এর পরে ব্রেকফাস্ট করুন। ভরপেট খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট পরে কফি খেতে পারেন। পাশাপাশি দিনে ৪ কাপের বেশি কফি খাওয়া উচিত না।