বোঝাপড়া বনাম অভিমান
একটা সম্পর্কে ভালোবাসা থাকে, আবেগ থাকে, কিন্তু টিকে থাকার শক্তিটা আসে বোঝাপড়া থেকে। আর ভাঙনের শুরুটা খুব চুপচাপ এসে দাঁড়ায় অভিমানের হাত ধরে। দুটোই সম্পর্কের অংশ, তবে কোনটা বেশি জায়গা পাবে তার ওপরই নির্ভর করে দুজনার যাত্রা।
বোঝাপড়া কী?
বোঝাপড়া হচ্ছে সেই নরম শক্তি, যেখানে কথা না বললেও চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝে নেওয়া যায়— আজ সে ক্লান্ত, আজ তার মন খারাপ, আজ শুধু পাশে একটা নির্ভরতা চাই।
বোঝাপড়া হলো— কথার আড়ালে থাকা অনুভূতিটা পড়তে পারা; ভুলকে বড় না করে মানুষটাকে বড় রাখা; বিচার নয়, সঙ্গ দেওয়া; রাগের বদলে ধৈর্য বেছে নেওয়া। যেখানে বোঝাপড়া থাকে, সেখানে দুজন আলাদা হয়ে যায় না—বরং আরও কাছে আসে।
অভিমান কেন হয়?
অভিমান আসলে ভালোবাসারই রঙ। যার ওপর আশা থাকে না, তার ওপর কেউ অভিমান করে না। কিন্তু অভিমান যখন জমতে জমতে অভ্যেস হয়ে যায়, তখন সম্পর্কের মাঝখানে নীরবতার দেয়াল দাঁড়িয়ে যায়।
অভিমান হয়— মন খুলে কথা না বললে, প্রত্যাশা পূরণ না হলে, ছোট ভুলকে বড় করে দেখা হলে, ‘আমার কথা কেউ বোঝে না’ এই বোধ থেকে অভিমান প্রথমে মিষ্টি, ধীরে ধীরে ভারী হয়ে যায়।
সম্পর্কে বোঝাপড়া না অভিমানের জয় হওয়া উচিত? কারও না। সম্পর্কে ‘জয়’ শব্দটাই ভুল, এখানে কেবল দুজনার ‘আমরা’ আছে। যখন বোঝাপড়া এগিয়ে আসে, অভিমান নিজে থেকেই নরম হয়ে যায়। যেখানে দুজনই একটু কম ইগো দেখায়, আর একটু বেশি ভালোবাসা দেখায় সেই সম্পর্কেই সুখ থাকে। কীভাবে সমতা আনা যায়?
শেষ কথা
অভিমান সম্পর্কের স্বাদ, বোঝাপড়া তার ভরসা। অভিমান থাকতেই পারে কিন্তু বোঝাপড়া যেন কখনো কমে না যায়। কারণ শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক টিকে থাকে রাগ-অভিমানে নয়, দুজনার একসঙ্গে থাকার চেষ্টা, বিশ্বাস আর ভালোবাসায়।
লেখক: শামস্ সোহাগ, লেখক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব