মানবিকতা ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা বিদ্যার শেষ নেই। কেবল ডিগ্রি অর্জন নয়, রোগীর প্রতি মমত্ববোধ, নৈতিকতা ও আধুনিক জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নিজেকে প্রকৃত মানবিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
রোববার (১ মার্চ) রাজধানীতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে মার্চ-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ফেইজ-এ-তে ভর্তিকৃত নবাগত রেসিডেন্টদের শপথ অনুষ্ঠান রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রাম ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মোট এক হাজার ৩০৬ জন রেসিডেন্ট চিকিৎসক শপথ নেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ যাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী না হয়, সেজন্য দক্ষ ও গবেষণামুখী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি করা সময়ের দাবি।’
রেসিডেন্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে ক্লিনিক্যাল দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক আচরণে সমৃদ্ধ হতে হবে। রোগীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও সহানুভূতিশীল মনোভাব চিকিৎসাসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে মলিকিউলার ল্যাবরেটরি, আধুনিক লাইব্রেরি এবং রেসিডেন্টদের জন্য আবাসিক হোস্টেল স্থাপনে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। তার মতে, গবেষণার অবকাঠামো শক্তিশালী না হলে বিশ্বমানের চিকিৎসা শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, ‘বর্তমান সরকার মানসম্পন্ন ও সবার জন্য প্রাপ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে নবাগত রেসিডেন্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।’
তিনি উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণায় মনোনিবেশ এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিকসের ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো শাহিনুল আলম। তিনি নবাগত রেসিডেন্টদের শপথ বাক্য পাঠ করান। তিনি বলেন, ‘ই-লগ বুক ও ই-আইআরবি চালু, বিএমইউ জার্নালের মানোন্নয়ন এবং এভিডেন্স বেইজড মেডিসিনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে রেসিডেন্টদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত ১৫ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন হাজার গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে গত পাঁচ বছরে এক হাজার ১০০ গবেষণার ফলাফল ইনডেক্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবছর চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে বহু মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে যায়। তাই কম খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন প্রজন্মের বিশেষজ্ঞদের দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে গবেষণা ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সার্জারি অনুষদে ৫৪৩ জন, মেডিসিন অনুষদে ৪০০ জন, শিশু অনুষদে ১২৪ জন, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদে ১৫৬ জন ও ডেন্টাল অনুষদে ৮৩ জন রেসিডেন্ট শপথ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, কোর্স ডিরেক্টর ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনীতে আবারও নবাগত রেসিডেন্টদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডিগ্রির চেয়ে বড় হলো দায়বদ্ধতা। দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিকতা, এই তিনের সমন্বয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।’