নেপালের নির্বাচনের তুলনায় বাংলাদেশের নির্বাচনে গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব আরও বেশি ও নিরঙ্কুশভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় আখতার হোসেন বলেন, ‘নেপালের নির্বাচনে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে ও বিপক্ষে উভয় শক্তিই নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে। কম-বেশি আসন লাভ করেছে। যদিও অভ্যুত্থানপন্থীরা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এখানে যারা অভ্যুত্থানের বিপক্ষে ছিল, তারা কোনোভাবেই সংসদে আসতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘এবারের সংসদ পুরোপুরি অভ্যুত্থানপন্থী শক্তির সংসদ। সরকারে থাকা বিএনপি, বিরোধী দলে থাকা এনসিপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ছোট দল সবাই ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।’
এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, ‘অভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তবে আওয়ামী লীগের মিত্র জাতীয় পার্টি, কিছু বাম দল ও সুন্নি জোট নির্বাচনে অংশ নিলেও জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’
তিনি জানান, এসব দল সম্মিলিতভাবে কোনো আসনে জয়লাভ করতে পারেনি ও মাত্র তিনটি আসনে জামানত রক্ষা করতে পেরেছে। অধিকাংশ আসনেই তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নেপালের প্রসঙ্গ টেনে আখতার হোসেন বলেন, ‘সেখানে তরুণদের দল রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টি (আরএসপি) ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও তাদের সংসদে প্রতিনিধিত্বের একটি ইতিহাস রয়েছে। এবারের নির্বাচনে তারা যে সাফল্য অর্জন করেছে, সেটিকে সাধুবাদ জানাই।’
তবে নেপালের উদাহরণ টেনে এনসিপিকে তুলনা করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অনেকেই নানা কারণে এনসিপিকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে চান, যেন বাংলাদেশে অভ্যুত্থানকারী দল বলতে শুধু এনসিপিকেই বোঝায়। অথচ বিএনপি বা জামায়াতের মতো দলগুলোর অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকা তারা উপেক্ষা করেন।’
তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নির্বাচনে গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে থাকা কোনো শক্তি একটি আসনও পায়নি। অথচ নেপালে কিছু আসন হলেও তারা পেয়েছে। সে হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচনে গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব আরও বেশি দৃশ্যমান এবং সফল।’
আখতার হোসেন বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের অভ্যুত্থানকে জনতার অভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকার করতে চান না, তারা বিভ্রান্তি তৈরির জন্য বিভিন্ন তুলনা টানছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সংসদে নির্বাচিত নয়টি দলের সবাই অভ্যুত্থানের পক্ষে ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন অভ্যুত্থানপন্থী শক্তিগুলোই বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণের জায়গায় কাজ করবে। ভবিষ্যতে এই অভ্যুত্থানকে কতটা সুরক্ষিত করা যায়, সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই জনগণ আগামী দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা মূল্যায়ন করবে।’