বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের দিনই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তার দাবি, একই শপথ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিধান থাকলেও বিএনপির এমপিরা তা করেননি, যা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
রোববার (০৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আয়োজনে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় আখতার হোসেন বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা। কিন্তু বিএনপির এমপিরা তা না করে আদেশের বাধ্যবাধকতা অমান্য করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানের পর ঐক্যমত্য কমিশনে সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে। তবে নানা বিষয়ে আপত্তি ও সংরক্ষণ তুলে ধরে তারা সংস্কার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করেছে। তবুও অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয় ও সেখানে সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।’
আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, গণভোটের আগে বিএনপির বুদ্ধিজীবী ও ছাত্র সংগঠনগুলো না ভোট-এর প্রচার চালালেও পরে পরিস্থিতি বুঝে দলটির নেতৃত্ব হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলতে শুরু করে। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পর তারা দাবি করছে যে গণভোটে রাজি হয়েছিল শুধুমাত্র নির্বাচন আদায়ের কৌশল হিসেবে। এটি জনগণের সঙ্গে এক ধরনের রাজনৈতিক চাতুরী।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ রাষ্ট্রব্যবস্থার ফ্যাসিবাদী চরিত্রের কারণে দীর্ঘদিন ভুগেছে এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষ জীবন দিয়েছে। সেই অভ্যুত্থানের ফলেই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায় প্রকাশ পেয়েছে। তাই এ ধরনের রাজনৈতিক প্রশ্নকে আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা ভুল পথ।’
এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান, গণভোট ও জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের চেয়ে বড় কোনো আইন হতে পারে না। যদি গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’
বিএনপির সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে আখতার হোসেন বলেন, ‘তারা ইতোমধ্যে জনগণের অর্পিত দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ভুল পথে হাঁটছেন। তবে এখনো তাদের সামনে সুযোগ রয়েছে।’ ১২ মার্চ সংসদের অধিবেশন শুরুর দিনই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে সংসদ সদস্য ও পরিষদ সদস্য উভয় দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে, যেখানে প্রয়োজন সেখানে আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।’