ক্রিকেট বিশ্বে আবারও শক্তির বার্তা দিল ভারত। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মুকুট আবারও নিজেদের মাথায় তুলে নিল টিম ইন্ডিয়া। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হলো ভারতীয় ক্রিকেট দল।
ভারতের মাটিতে, দর্শকে ঠাসা আহমেদাবাদের বিশাল স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই যেন একপাক্ষিক লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। রোববার নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। এরপর যা হলো, তা যেন নিউজিল্যান্ড বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো।
শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ভারত। ইনিংসের শুরুতেই ঝড় তোলেন তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা। মাত্র ২১ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে নিউজিল্যান্ড বোলিং আক্রমণকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেন তিনি।
এরপর ব্যাট হাতে ঝলসে ওঠেন সানজি সামসম। ফাইনালের চাপ যেন তাকে স্পর্শই করতে পারেনি। মাত্র ৪৬ বলে ৫টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে দুর্দান্ত ৮৯ রান করেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টেই ছিলেন দারুণ ছন্দে—সেমিফাইনালেও খেলেছিলেন ৮৯ রানের ইনিংস, আর তার আগের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেন অপরাজিত ৯৭ রান।
ব্যাট হাতে আক্রমণ অব্যাহত রাখেন ইশান কিশান। তিন নম্বরে নেমে মাত্র ২৫ বলে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় করেন ঝড়ো ৫৪ রান। শেষ দিকে এসে ছোট কিন্তু বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন শিবম দুনে। মাত্র ৮ বলে ২৬ রান করে ইনিংসের গতি আরও বাড়িয়ে দেন তিনি।
সব মিলিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে রেকর্ড ২৫৫ রান তুলে স্বাগতিক ভারত।
২৫৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ক্রমশ ছিটকে যায় তারা। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৫৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় কিউইরা।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন ওপেনার সেইফার্ট। ২৬ বলে ২টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে করেন ৫২ রান। অধিনায়ক মিচেল সান্টনার ৩৫ বলে ৪৩ রান করলেও তা দলকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি।
ভারতের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন জাসপ্রিত বুমরাহ। তার নিখুঁত বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। পাশাপাশি অক্ষর পাটেল ৩ ওভারে ২৭ রান দিয়ে শিকার করেন ৩টি উইকেট।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে নতুন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে আবারও বিশ্বচূড়ায় উঠল ভারত। এর আগে ধোনির নেতৃত্বে ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। এরপর রহির শর্মার অধিনায়কত্বে দ্বিতীয় শিরোপা আসে গত আসরে। আর এবার সূর্যকুমারের নেতৃত্বে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিল টিম ইন্ডিয়া।
ফাইনালের মঞ্চে ভারতের এই দাপুটে পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের আধিপত্য অটুট।