মানিকগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন মারা গেছেন। রাজধানীতে নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাকে ঢাকার পপুলার হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বাসায় থাকতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
মৃত্যুকালে গোলাম সারোয়ার মিলনের বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ফাতেমা সারোয়ার, ছেলে সাবায়ের সারোয়ার, মেয়ে তানজিয়া সারোয়ার অমিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।
ছেলে সাবায়ের সারোয়ার জানান, রোববার বাদ যোহর মানিকগঞ্জের সিংগাইর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ মাগরিব ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কবিরাজ জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
১৯৫৭ সালের ৬ নভেম্বর পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে জন্ম নেওয়া এই নেতা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তার বাবা মোতাহার হোসেন ছিলেন একজন সরকারি চাকরিজীবী এবং মা হাসিনা বিশ্বাস।
গোলাম সারোয়ার মিলন ১৯৮১-৮২ মেয়াদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাবশালী ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এর আগে তিনি ভাসানী ন্যাপ সমর্থিত বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তৎকালীন এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে কারাবরণও করেন তিনি।
১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন গোলাম সারোয়ার মিলন। তৃতীয় ও চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন মানিকগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মিলন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এমপি থাকার পাশাপাশি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভায় ১৯৮৬-৮৭ সালে শিক্ষা উপমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৭ সালের আলোচিত ওয়ান-ইলেভেনের পর ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলে (পিডিপি) যোগ দেন। পরবর্তীতে আবারও জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারায় যোগ দিয়ে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে কুলা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ জনতা পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
এদিকে গোলাম সারোয়ার মিলনের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।