নির্বাচন-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার খবর, বিশেষ করে নাবালিকা কন্যাশিশুর ধর্ষণের মতো নৃশংস ঘটনা গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কার জন্ম দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন মোনামী। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও মানবিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’
রোববার (০৮ মার্চ) সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ‘সম্মিলিত নারী প্রয়াস’-এর উদ্যোগে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেহরীন মোনামী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে নাবালিকা কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতার ঘটনা যে হারে সামনে আসছে, তা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এমন নৃশংসতা কোনোভাবেই সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেও একজন কন্যাসন্তানের বাবা। সেই জায়গা থেকে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, তিনি বিষয়টিকে একজন বাবার অনুভূতি দিয়ে দেখবেন এবং এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন, যেখানে প্রতিটি মেয়ে তার বাবাকে নিয়ে গর্ব করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি কন্যাশিশু যেন নিরাপদ, সম্মানজনক ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে, এটাই সবার প্রত্যাশা। রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হবে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি মেয়ে নিজেকে নিরাপদ ও আশ্বস্ত মনে করে।’
অনুষ্ঠানটির উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভানেত্রী ড. শামীমা তাসনীম। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন শুধু নারীদের ইস্যু নয়, এতে সমাজের নারী-পুরুষ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাতেই একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে ওঠা সম্ভব।’
আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদ আবরার ফাহাদের মা মোসাম্মৎ রোকেয়া খাতুন এবং গুমের শিকার ব্যারিস্টার আরমানের মা খন্দকার আয়েশা খাতুন ও স্ত্রী তাহমিনা আক্তার। তারা ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সেক্রেটারি ড. ফেরদৌস আরা খানম। তিনি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।