প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ও অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়েছে পিআইবি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সঙ্গে পিআইবির মহাপরিচালককে নিয়ে মানহানিকর কার্টুন ও আপত্তিকর ক্যাপশন প্রকাশ করা হয়েছে, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মানহানিকর।
রোববার (১৫ মার্চ) পিআইবি সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ পত্রিকাটির সম্পাদক বরাবর একটি বিস্তারিত প্রতিবাদলিপি পাঠানো হলেও এখনো তা প্রকাশ করা হয়নি। এ অবস্থায় পিআইবি বোর্ডের ১৭১তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবাদলিপিটি জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়, ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ মার্চ কালের কণ্ঠের প্রথম পাতায় ‘ফারুক ওয়াসিফ, আপনিও! সাংবাদিকতার শিক্ষালয় পিআইবিতে বসে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের দুর্নীতি-জালিয়াতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে পিআইবির মহাপরিচালককে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ও অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশ করা হয় ও সেখানে ‘মানি ইজ পাওয়ার’, ‘নতুন বই: নীতি বাক্য সমগ্র’ সহ বিভিন্ন আপত্তিকর ক্যাপশন যুক্ত করা হয়।
পিআইবি দাবি করে, এসব উপস্থাপন সাংবাদিকতার নীতিমালা পরিপন্থী এবং ব্যক্তিগতভাবে ফারুক ওয়াসিফের মানহানি করেছে।
পিআইবি পরিচালক ফারুক ওয়াসিফ জানান, প্রতিবেদনে যে ২৪ লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুয়া। ওই অর্থ কোনো অনুষ্ঠান খাতে ব্যয় করা হয়নি। বরং অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’ নির্মাণ ব্যয় হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। ভ্যাট-ট্যাক্সসহ মোট ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুপি বাঘা প্রডাকশনসকে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, কালের কণ্ঠ যে বিল-ভাউচারকে দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছে, সেগুলো জাল বা ভিত্তিহীন কাগজপত্র। পিআইবির আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ ডিজিটাল নথির মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং সেখানে এমন কোনো ব্যয়ের তথ্য নেই।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ‘তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’ আয়োজন নিয়েও পিআইবি ব্যাখ্যা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ওই কর্মসূচি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত উদ্যোগ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পিআইবি শুধু আলোকচিত্র, ড্রোন ভিডিও ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে। উৎসবের অন্যান্য ব্যয় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছে।
পিআইবি আরও অভিযোগ করে, প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহের সময় এক প্রতিবেদক নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে অন্য পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার লঙ্ঘন।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, বর্তমান মহাপরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৭ মাসে পিআইবি সারাদেশে প্রায় আট হাজার সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং সাংবাদিকতা বিষয়ে ১২টির বেশি গবেষণা গ্রন্থ ও সংকলন প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া ১৯৪৭ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অসংখ্য সংবাদপত্রের ডিজিটাল সংরক্ষণ করে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় করেছে।
পিআইবি জানায়, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য যেকোন নিরপেক্ষ তদন্তে তারা প্রস্তুত। একই সঙ্গে প্রতিবাদলিপিটি তিন দিনের মধ্যে কালের কণ্ঠের মুদ্রিত ও অনলাইন সংস্করণসহ সব ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, কালের কণ্ঠে প্রতিবেদনের মোড়কে প্রকাশিত ও প্রচারিত বিদ্বেষপ্রসূত কল্পকাহিনী সাংবাদিকতা সম্পর্কিত দেশে প্রচলিত আইন-কানুন ও রীতি-নীতির নির্লজ্জ লঙ্ঘন।
আরও বলা হয়, ‘এ প্রতিবাদপত্র আগামী তিন দিনের মধ্যে কালের কণ্ঠের প্রিন্ট সংস্করন, অনলাইন ভার্সন, ইউটিউব, ফেসবুকসহ সমস্ত ডিজিটাল প্লাটফর্মে ও পত্রিকার প্রথম পাতায় ফলাও করে (যেমন ফলাও করে ওই বানোয়াট প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়) প্রকাশ ও প্রচারের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পথ উন্মুক্ত থাকবে।’