তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, বেতন-কাঠামো ও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার একটি যুগোপযোগী রোডম্যাপ তৈরি করছে। পেশাগত সব সমস্যা সমাধানে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্রস্তাব ও সহযোগিতা কামনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরির মাধ্যমে আমরা পাহাড়সম সমস্যার জট খুলতে চাই।’
রোববার (১৫ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলের পর এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড ও পেশাগত ঝুঁকির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন বা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ‘রুলস অফ বিজনেস’ ও আইনি কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সরাসরি আইন প্রয়োগের ক্ষমতা থাকে না। আমরা এই সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করছি। প্রয়োজনে ‘রুলস অফ বিজনেস’ পুনর্মূল্যায়ন ও তথ্য মন্ত্রণালয়কে সময়োপযোগী সংস্কার করার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।’
ডিজিটাল অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনকার যুগে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার বাইরেও ডিজিটাল সার্ভিস মানুষের ফান্ডামেন্টাল রাইটের (মৌলিক অধিকার) মধ্যে ঢুকে গিয়েছে। আমাদের সরকার যেহেতু বিজনেস মিন করে, তাই আমরা আগে সমস্যার গভীরে গিয়ে রোগটা বুঝতে চাচ্ছি।’
বিটিভি ও বেতারের আধুনিকায়ন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিটিভিকে কেউ কেউ সাহেব-বিবি-গোলামের বাক্স মনে করে। রেডিও আসলেই কেউ শোনে কি না তা নিয়ে আমার নিজেরই প্রশ্ন আছে। অথচ বিশ্বে কমিউনিটি রেডিও অনেক শক্তিশালী। তাই প্রতিটি মুহূর্তে সেবা দেওয়ার জন্য ডিজিটাল এম্পাওয়ারমেন্ট প্রয়োজন।’
সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব রক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃত সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকেই অভিযোগ আসছে যে অনেকে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে অনৈতিক কাজ করছে। এসব বিশৃঙ্খলা দূর করে প্রকৃত সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষায় মালিক পক্ষ ও সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে দ্রুতই মতবিনিময় করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে ‘কী প্রচার করা যাবে না’ শুধু সেটুকুই সুনির্দিষ্ট থাকা উচিত, এর বাইরে বাকি সবকিছুই প্রচারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন্দ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল ও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ক্র্যাব সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।