জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কয়েকজন কর্মকর্তার দক্ষতায় সন্তুষ্ট হয়ে আসন্ন দুটি উপনির্বাচনে জেলা প্রশাসনের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন ও স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানায়, এই দুই আসনের নির্বাচনের ফল জাতীয় পর্যায়ের ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আনবে না। ফলে তুলনামূলকভাবে কিছুটা রিলাক্সড পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের সক্ষমতা আরও একবার পরখ করে দেখার সুযোগ রয়েছে। এ কারণেই জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব না দিয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চারটি আসনে দায়িত্ব পালনকারী তিনজন জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যক্রমে কমিশন সন্তুষ্ট হয়েছে। ওই নির্বাচনে কমিশনের কর্মকর্তারা যেভাবে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন, তার স্বীকৃতি হিসেবেই এবারও তাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ঢাকার দুটি আসন, খুলনা এবং চট্টগ্রামের একটি করে আসনে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ঢাকা মহানগরীর ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। একইভাবে চট্টগ্রাম-১১ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং খুলনা-৩ আসনে দায়িত্ব পালন করেন খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা।
আসন্ন নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। আর বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম।
এদিকে ইতোমধ্যে দুই আসনেই প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি আসনে তিনজন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদকে প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে বিএনপি প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেল পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক ও বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী মিজানুর রহমান পেয়েছেন কাঁচি প্রতীক।
অন্যদিকে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিন তালুকদার পেয়েছেন ফুলকপি প্রতীক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘গুরুত্বের বিচারে কিছুটা রিলাক্সের সুযোগ থাকায় নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাজের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন করা হয়নি।’
তবে নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন সংস্কার কমিশন ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের দিয়েই নির্বাচন পরিচালনার বিষয়টি আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতির কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে বিভাগীয় পর্যায়ের তিনজন নির্বাচন কর্মকর্তার পারফরম্যান্স ভালো হওয়ায় এবার দুটি আসনে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সংগঠনের নেতারা মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের দ্বারাই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব, সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতায় সেটি প্রমাণিত হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও জেলা, বিভাগীয় এবং সমমর্যাদার নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নেবে নির্বাচন কমিশন।