রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক উদ্যোগে ঘুড়ি উৎসবসহ সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়মিত করা গেলে দেশের সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। রোববার (২২ মার্চ) বিকাল চারটায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুড়ি উৎসবে অংশ নিতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় গত বছর তিনি সরকারের দায়িত্বে থাকাকালে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ঘুড়ি উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মতো ঈদকেন্দ্রিক কিছু আয়োজন করা হলেও এই সরকারের আমলে তা ধারাবাহিকভাবে চালু রাখা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন।
এর আগে শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে নাগরিক উদ্যোগে আয়োজিত এই ঘুড়ি উৎসবে সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এই সাবেক উপদেষ্টা।
ঈদ উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী দিনে ঘুড়ি উৎসবে অংশ নিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ঘুড়ি উৎসব আমাদের শৈশবের স্মৃতি ও গ্রামীণ সংস্কৃতিকে নতুন করে ফিরিয়ে আনে। এ ধরনের উৎসব মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলে ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে।
তিনি বলেন, ছোটবেলায় গ্রামে ঘুড়ি উড়ানোর অভিজ্ঞতা এখনও স্মৃতিতে ভাসে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ঘুড়ির প্রচলন রয়েছে, যার আলাদা নাম ও গঠন রয়েছে, যা আমাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুরান ঢাকায় সাকরাইনসহ বিভিন্ন ঘুড়ি উৎসব দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, যা মানুষের মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতি তৈরি করে। এসব উৎসব আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের অংশ হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই তা হারিয়ে যেতে বসেছে।
তিনি বলেন, এবারের ঈদ উৎসবের অংশ হিসেবে নাগরিক উদ্যোগে এই ঘুড়ি উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ এতে অংশ নিয়েছে, যা আয়োজকদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক।
ঘুড়ি উড়ানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, আজ বাতাস তুলনামূলক কম থাকায় ঘুড়ি উড়ানো কিছুটা কঠিন ছিল। তবুও তিনি দুটি ঘুড়ি কাটতে সক্ষম হয়েছেন।
সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশে অনেক প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে, কিন্তু সেগুলোর ধারাবাহিক চর্চা নেই। অনেক সময় আমরা প্রকৃত ঐতিহ্যকে ভুলে যাই, অথচ নতুন কিছু বিষয়কে দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, ঈদ মিছিলের মতো অনেক ঐতিহ্য রয়েছে, যা শত শত বছর ধরে চলে আসছে, কিন্তু যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে নিয়মিত আয়োজন হয় না। প্রতিবছর ঈদ উৎসব আয়োজনের চেষ্টা করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা কাম্য।