আমাদের মা আর আমাদের মাটি
মিশে আছে একাকার হয়ে আমাদের ঘরে,
আমাদের স্বাধীনতা মানে সেই চিরচেনা হাসি
যা ঝরে পড়ে ভোরের শিশিরে।
কবির সেই স্বাধীনতা এসেছিল বহু রক্তপথ পেরিয়ে, বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে। বাঙালি জাতির ইতিহাসে গৌরব, বেদনা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দিন তাই ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিন, স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের এই সময়টাতেই শুরু হয় স্বাধীনতার পথে বাঙালির চূড়ান্ত যাত্রা, যার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, বৈষম্য ও এক ভয়াল গণহত্যার ইতিহাস।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাতে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সরকার ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পূর্বপরিকল্পিত সামরিক অভিযান চালায় পূর্ব পাকিস্তানে। রাতের অন্ধকারে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র মানুষের ওপর চালানো হয় নির্বিচার হামলা। পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশলাইন, নীলক্ষেত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘটিত হয় ইতিহাসের ভয়াবহতম হত্যাযজ্ঞ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। জহুরুল হক হল ও রোকেয়া হলসহ বিভিন্ন আবাসিক হলে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। নারীদের ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি এক নৃশংসতম গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত।
সেই কালরাতেই পাকিস্তানি বাহিনী গ্রেপ্তার করে সেই সময়ের জনপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন, যা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমতকে আরও জোরালো করে।
এই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী এই সংগ্রামে লাখো শহীদের আত্মত্যাগ ও অসংখ্য মানুষের ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার এই মহান দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৬ মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রতি বছর যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের সঙ্গে দিবসটি পালন করা হয়, স্মরণ করা হয় সেই সব শহীদ ও বীরদের, যাদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই স্বাধীনতা।