আমরা রক্ত ঝরিয়েছি বলেই আজ আপনারা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন হান্নান মাসউদ।
জেন-জি আর বাহাত্তরের সংবিধান চায় না বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই প্রজন্ম জানতে চায় কেন স্বাধীনতার ৩০ বছর পর জন্ম নিয়েও তারা ভোটাধিকার পায়নি। আমরা স্বাধীন দেশে জন্ম নিয়ে নতুন পতাকা, মানচিত্র ও সীমানা পেয়েছি, যা পূর্বপুরুষদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। তবে, আমরা কি সেই কাঙ্ক্ষিত নিরাপদ বাংলাদেশ পেয়েছি? সেটাতো পাইনি।’
নির্বাচনের সময় নিজের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা রক্ত ঝরিয়েছি বলেই আজ আপনারা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন।’
নির্বাচনি প্রচারের সময় ও নির্বাচনের পরও হামলার শিকার হয়েছেন জানিয়ে আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমার ওপরে হামলা করেছিল। তারা কারা? ওরাতো তারা যাদের হাতে বিএনপির নেতাকর্মীদের রক্ত লেগে আছে। এ বিশ্বাসঘাতকতা রাষ্ট্র সইবে না। বিশ্বাসঘাতকতার মূল্য দিতে হবে আবার। আপনাদের ভাইদের খুনিদের পুনর্বাসন করে আমাদের ওপর লেলিয়ে দিচ্ছেন। চট্টগ্রাম থেকে এক সাংগঠনিক সম্পাদককে পাঠিয়েছেন অস্ত্রসহ আমাদের লোকদের ওপর হামলা করতে।’
নির্বাচনের পর শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার কারণে এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে দাবি করে হান্নান মাসউদ বলেন, ‘৪২ দিন পরও ডিএনএ প্রতিবেদন আসেনি। মামলা নিতে তিনদিন দেরি হয়েছে। সিভিল সার্জেন্ট প্রতিবেদন দিলেও ভুক্তভোগী নারী জানে না কি এসেছে। এ ভয়াবহ পরিস্থিতি কারা তৈরি করেছে? আমার মনে হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনের ব্যাখ্যা না দিয়ে, আইনমন্ত্রী আইনের ব্যাখ্যা দেবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এসবে মনোযোগ দেওয়া দরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মনোযোগ দেওয়া দরকার কোথায় কোথায় সন্ত্রাসীরা আছে, তাদের তালিকা করে বিচারের আওতায় আনার। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা হত্যার শিকার হয়েছেন, তার বিচার করা দরকার।’
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আরও আলোচনা করেন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, আবদুল আজিজ, মোহাম্মদ আব্দুল মালিক প্রমুখ।