প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, পর্যায়ক্রমিকভাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্রি-পাইলটিং ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার। নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম, তার মধ্যে কৃষক কার্ড অন্যতম।’ তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ থাকা কৃষকদের ঋণ সুদসহ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতিও সরকার দ্রুত বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে সারাদেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা প্রথম ধাপে প্রায় ২২ হাজার কৃষকের হাতে কার্ড তুলে দিচ্ছি। তবে আমাদের লক্ষ্য অনেক বড়—পর্যায়ক্রমে দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।’
দেশের অর্থনীতি ও সমাজে কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কোনো না কোনোভাবে কৃষির সংযোগ রয়েছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই বিশ্বাস থেকেই সরকার কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করছে।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রতীকীভাবে কৃষক কার্ড ও একটি করে গাছের চারা তুলে দেন। একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আরও নয়টি উপজেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ১১টি উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার কৃষক এই কার্ডের আওতায় আসছেন।
পহেলা বৈশাখের সঙ্গে কৃষির ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলা নববর্ষের সূচনা কৃষকদের হিসাব-নিকাশ ও নতুন বছরের প্রস্তুতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করেই এই দিনে কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী অতীতের কৃষিবান্ধব উদ্যোগগুলোর কথাও তুলে ধরেন। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া সরকারের সময় কৃষি ঋণ মওকুফ ও জমির খাজনা ছাড়ের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি জিয়াউর রহমান-এর খাল খনন কর্মসূচির ফলে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণ হওয়ার উদাহরণ তুলে ধরেন।
কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবর রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ। এ ছাড়া একজন কৃষক ও একজন কৃষাণী তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
এর আগে সকাল ১১টায় সড়কপথে টাঙ্গাইলে পৌঁছে ১১টা ২০ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় পথের দুই-পাশে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন। পরে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে নামাজের বিরতি শেষে সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।