ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনের কার্যক্রম চলছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দ্বিতীয় ও শেষ দিনের মতো এ কার্যক্রম শুরু হয়।
এর আগে বুধবার দুপুর ২টায় প্রথম দিনের বাছাই প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান। তারা হলেন— নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ, সামসুন নাহার, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান, মাহবুবা হাকিম ও রোকেয়া বেগম।
তবে তথ্য যাচাইয়ের জন্য জামায়াত জোটের প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র সাময়িক স্থগিত রাখা হয়। তার মনোনয়নপত্রে পেশা হিসেবে সরকারি চাকরি ও পে-স্কেলের উল্লেখ থাকায় এবং আরপিও (নির্বাচনি বিধিমালা) অনুযায়ী, সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায়, স্বপক্ষে প্রমাণ জমা দিতে তাকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
উল্লেখ্য, এ নির্বাচনে বিভিন্ন দল ও জোট এবং স্বতন্ত্রভাবে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মোট ৫৩ জন প্রার্থী। সেদিন বিকেল পৌনে ৫টায় নির্বাচন ভবনে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল। পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী আজ বিকেল ৪টায় সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত আমরা বিএনপি ও জোট থেকে ৩৬টি মনোনয়নপত্র পেয়েছি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জোট থেকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র জোট থেকে একটি মনোনয়নপত্র পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর বাইরে আমরা তিনজনের মনোনয়নপত্র পেয়েছি, তারা হলেন—শাম্মা আক্তার, মোসাম্মৎ মেহরুন্নেসা ও মাহবুবা রহমান। এই তিনজন আসলে কোনো দল বা জোট থেকে আবেদন করেননি, তারা নিজেদের মতো করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।’
এদিকে বাছাই পর্ব শেষ হওয়ার পর ইসির পূর্বঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৬ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে। এরপর ২৭ ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। কোনো প্রার্থী চাইলে আগামী ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিতে পারবেন। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে আগামী ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং সবশেষে আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।