সারাদেশে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠির প্রেক্ষিতে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) যুগ্ম কমিশনার মুনশী সাহাবুদ্দীন। তিনি বলেন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এটা নিয়ে কাজ করছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার জানান, এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের নামে একটি প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে তাদের সরবরাহ করা প্রশ্নের সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনকে গ্রেপ্তর করা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে সামরিক বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলেও জানান তিনি।
এর আগে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সম্ভাব্য নাশকতা পরিকল্পনা ঘিরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এই চক্রটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন- জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কাও রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া তারা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও গ্রহণ করে থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যের ইঙ্গিত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ।
এই পরিপ্রেক্ষিতে চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে বর্ণিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।