ডিজিটাল অপরাধের ইতিহাসে এক অভাবনীয় সাফল্য দেখাল বাংলাদেশ পুলিশ। অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে এনে নতুন নজির স্থাপন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আলোচিত প্ল্যাটফর্ম ‘এমটিএফই’-এর মাধ্যমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে ধরা পড়ল পাচার করা অর্থ
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় আলোচিত অনলাইন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এমটিএফই। কৃত্রিম লাভের লোভ দেখিয়ে কয়েক লাখ গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল এই প্রতিষ্ঠানটি। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষজ্ঞরা জানান, পাচারকৃত এই অর্থ ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে বিদেশের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়া হয়। উন্নত ‘ব্লকচেইন অ্যানালাইসিস’ এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে সিআইডি এই অর্থের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। শেষ পর্যন্ত ৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪৪ কোটি টাকার বেশি সমমূল্যের ইউএসডিটি জব্দ করা হয়।
আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা
বাংলাদেশের এই সক্ষমতা কেবল দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হয়েছে। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংস্থা ‘সিক্রেট সার্ভিস’ তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই সাফল্যের খবর প্রকাশ করেছে। তারা একে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অংশীদারিত্বের এক বড় অর্জন হিসেবে দেখছে। এই অর্থ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ সিআইডির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে একটি ‘অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটার’ দেওয়া হয়েছে।
বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর
সাধারণত ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার করা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া হলেও সিআইডি আদালতের নির্দেশনা এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয়। জব্দকৃত ডিজিটাল মুদ্রাগুলোকে বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে পরবর্তী সময়ে সোনালী ব্যাংকের সরকারি হিসাবে জমা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে ডিজিটাল জগতের চোররা এখন আর ধরাছোঁয়ার বাইরে নয়। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের এক কর্মকর্তা জানান, সাইবার অপরাধ দমনে বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ এবং প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী। এই জয়ের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে বিশ্বমানের তদন্ত এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে এই অর্থ ফিরিয়ে আনাকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও তদন্ত খাতের বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।